'স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরআন নাজিলের মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিন'


জাগো প্রহরী ডেস্ক :
স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন্ন রমজান মাসে হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশের সভাপতি ও গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন। আজ সোমবার (১২ এপ্রিল ) বোর্ডের মজলিসে আমেলা (নির্বাহী কমিটি) র জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি রুহুল আমীন আরো বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগ বিশেষ করে শিক্ষা বিভাগ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলেম উলামাদের দাবীর প্রেক্ষিতে আলেম উলামাদের প্রতি আস্থা রেখে কওমি মাদরাসা সমূহ খুলে দেওয়ার সিদ্ধন্ত দেন। দেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড সমূহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করে মাদরাসা সমূহের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রত্যহ নামাজ শেষে মহামারী থেকে রক্ষার জন্য দোয়া করে। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর রহমাতে শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সময় কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থী মাদরাসার মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রন্ত হয়েছে বলে আমাদের জানা নাই। এভাবে কওমি মাদরাসা সমূহ অত্যন্ত সফলতার সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাওরায়ে হাদিস সহ সকল স্তরের বার্ষিক পরিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাবর্ষ শেষ করে।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস রমজান আসন্ন অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশে নতুন করে লকডাউন এবং কওমি মাদরাসা সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু বরকতময় রমজান মাসে আল্লাহর রহমাত, বরকত, মাগফিরাত হাসিল এবং করোনা ভাইরাসের মতো মহামারী হতে মুক্ত হতে এবং হাফেজ সাহেবদের কুরআন মুখস্ত করা ও কুরআন তেলাওয়াত করা এবং দোয়া হওয়া খুবই জরুরি। 

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা ও এতিম শিশুদের প্রতি দয়ার্দ্র হয়ে দেশের এতিমখানা সমূহ খোলা রাখার যুগান্তকারী সিদ্ধন্ত নিয়েছেন।  বর্তমানে কওমি মাদরাসা সমূহের জামাত বিভাগ বন্ধ রয়েছে এ জন্য হিফজ বিভাগ ও ক্বেরাত বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও সহজ। তাই পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কওমি মাদরাসা সমূহের হিফজুল কুরআন ও ক্বেরাত বিভাগ খুলে দিলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে তেমনি তাদের কুরআন তেলাওয়াত এবং দোয়ার মাধ্যমে এই মহামারী থেকে মুক্তির পথ সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা শামছুল হকের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহসভাপতি মাওলানা নুরুল হক, মাওলানা কাবিরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা হায়াত আলী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা জামাল উদ্দিন, মুফতি মুঈনুদ্দিন, মাওলানা জাহিদ আল মাহমুদ, মাওলানা রেজাউল হক ও মুফতি উসামা আমীনসহ প্রমূখ ৷

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ