ঢাবিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বসানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের


জাগো প্রহরী ডেস্ক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বসানোর চেষ্টা করেছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার (১২ এপ্রিল) বিকালে এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমতি না থাকায় ভাস্কর্য বসাতে পারেনি সংগঠনটি। ১২ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য হাকিম চত্বরে আনা হয়। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধায় কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ভাস্কর্য এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভাস্কর্য বসাতে পুলিশ বাধা দিলে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে। এ সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতাকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে সোহান খান, মাহবুব, প্রদিপসহ একাধিক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ভাস্কর্যটি বসানোর জন্য যে মঞ্চ বানানো হয়েছিল সেটি ভেঙে ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি সনেট মাহমুদ বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় আত্মশ্লাঘা বঙ্গবন্ধু এবং স্বাধীনতা। আজ সেই জায়গা ঢাবি প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন পেরেক মেরে দিল! এটা অতিবদুঃখের বিষয় যে স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম বর্ষে আমাদেরকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার একটি একক ভাস্কর্য স্থাপন করতে দিল না! এর চেয়ে বড় লজ্জা স্বাধীন বাংলাদেশে আর কি হতে পারে। ধিক্কার জানাই এই প্রশাসনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও ভাস্কর্য বসাতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সিন্ডিকেটের অনুমতি লাগে। এরকমভাবে হুট করে কোথাও ভাস্কর্য বসানো যায় না। আর তারা যেখানে ভাস্কর্য বসানোর জন্য চেষ্টা করছেন সেটি মর্যাদাকর ও উপযুক্ত জায়গা নয়।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে একটি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বানাতে পারেনি। তাদের দ্বারাই এটা সম্ভবও নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য বসাতে চেয়েছিলাম কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। 

এদিকে আমিনুল ইসলাম একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। সকল ব্যর্থতা আমার।

জাগো প্রহরী/এফজে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য