ওআইসি’র বৈঠকে কাশ্মির প্রস্তাব, নাখোশ ভারত


জাগো প্রহরী :
নাইজারে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র বৈঠকে জম্মু-কাশ্মির নিয়ে যৌথ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলো। রোববার (২৯ নভেম্বর) ভারত সেই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে দাবি করেছে, জম্মু-কাশ্মির নিয়ে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণের কোনো অধিকার অন্য কোনো দেশের নেই।

ভারতের বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মির ভারতের অখণ্ড অংশ। এবং বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

নাইজারে গত ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর ৪৭তম ওআইসি সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। করোনা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জম্মু-কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। 

ভারতীয় সংবিধানে দেয়া কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা ২০১৯ সালে বিতর্কিত ভাবে বাতিল করে মোদি সরকার। ফলে কাশ্মির এতদিন যে বিশেষ অধিকার পেত, তা বাতিল হয়ে যায়। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মির রাজ্যকে ভেঙে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। একটি লাদাখ এবং অন্যটি জম্মু-কাশ্মির।

মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বিতর্ক কম হয়নি। ভারতের ভিতর বিরোধীরা এর প্রতিবাদ করেছেন। ভারতের বাইরেও এর প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তান শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে ইমরান খানের সরকার। তবে ভারত বারবারই দাবি করে এসেছে, কাশ্মির ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’। অন্য কোনো রাষ্ট্রের সে বিষয়ে মন্তব্য করার ‘অধিকার নেই’।

এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চ সরাসরি কাশ্মির নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নাইজারের সম্মেলনে কাশ্মির প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এরপরেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে। সেখানে দাবি করা হয়, কাশ্মির নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণের ‘কোনো অধিকার কোনো রাষ্ট্র বা অর্গানাইজেশনের নেই’।

একই সঙ্গে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, যে সব রাষ্ট্র ওই প্রস্তাবের অংশীদার, তাদের নিজেদের দেশেই সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষিত নয়। সংখ্যালঘুদের উপর সেখানে অত্যাচার করা হয়।

এর আগে চীনের সমর্থনে জাতিসঙ্ঘেও কাশ্মির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিল পাকিস্তান। পরবর্তীকালে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক। ভারতের কাশ্মির নীতির নিন্দা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। অন্য দিকে আরব বিশ্বেও কাশ্মিরে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি আরবের জি-২০ নোটে ব্যবহার করা ভারতের মানচিত্র থেকে কাশ্মিরকে বাদ দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওআইসি-র বৈঠকে কাশ্মির প্রসঙ্গে প্রস্তাব গ্রহণ অভূতপূর্ব ঘটনা।

জাগো প্রহরী/এফজে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য