মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে শাস্তি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের


জাগো প্রহরী :
বিভিন্ন কর্মসূচির পর এবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় একের পর এক শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষণের ন্যায় ‘বলাৎকারের’ জন্যও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার দাবি জানান। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বেশ কয়েকটি দাবি করেন তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়ানো, সব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে শামসুল উলুম দাউদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম ক্বারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আহাদ বলেন, “বলাৎকার ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। বলাৎকারকারী ও এদের সমর্থনদাতারা ইসলামের শত্রু। বলাৎকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আজ আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি।

“ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট আমরা আলেম সমাজ দাবি জানাচ্ছি।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “গত এক মাসে দেশে প্রায় ৪০ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুটি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে এবং ইতোমধ্যে একটি শিশু আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় বলাৎকার নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশের আলেমদের কোনো মন্তব্য বা প্রতিবাদ আমাদের চোখে পড়েনি।”

এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নিজেদেরকে ইসলামিক দল হিসেবে দাবি করা হেফাজতে ইসলামের নেতারাও বলাৎকারের ঘটনাগুলো নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মামুনুল-ফয়জুল গংরা বলাৎকারের নীরব সমর্থনদাতা। এদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, “পবিত্র মসজিদ হচ্ছে মুসলিমদের জন্য এবাদতের স্থান। কিন্তু সেই মসজিদ ও  মাদ্রাসাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। অবিলম্বে ধর্ম ব্যবসায়ীদের এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাত দফা দাবি:

১. ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ও বলৎকারের সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

২. মহানবী (সা:) কে অবমাননাকারী ও বলৎকারের সমর্থনদাতা মামুনুল হক গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।

৪. বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৫. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননাকারীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে।

৬. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে।

৭. সকল মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ