শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে : ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ


জাগো প্রহরী :
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শ্রদ্ধাভাজন ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবারও বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ঘাড় মটকে দেয়ার হুমকি দিয়ে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। অবিলম্বে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে ইসলামপন্থীদের ঘাড় মটকে দেয়ার হুমকি দিয়ে অনেক ক্ষমতাধররা টিকে থাকতে পারেনি।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগরী : ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর আমীর মোস্তফা বশিরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক এক যুক্ত বিবৃতিতে শিক্ষা উপমন্ত্রীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ইসলামপন্থীদের ঘাড় মটকে দেয়ার হুমকি দিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাঁকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অতীতেও ইসলামপন্থীদের ঘাড় মটকাতে এসে ফেরাউন, নমরুদ, আবু জাহেলদের নিজেদেরই ঘাড় মটকে গেছে। বর্তমানেও যারা ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে ইসলামপন্থীদের ধ্বংস করতে আসবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ ও সেক্রেটারি মাওলানা এবিএম জাকারিয়া শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আজ এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শ্রদ্ধাভাজন ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে শিক্ষা-উপমন্ত্রী নওফেল চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। নওফেল সরকারের একজন মন্ত্রী হয়ে সন্ত্রাসীর ভাষা ব্যবহার করে নিজেকে বেয়াদব হিসেবে জাহির করলেন। নেতৃদ্বয় বলেন, এরূপ ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য দেশবাসীর সামনে নওফেলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দায়িত্ব জ্ঞানহীন ব্যক্তি নওফেলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী এক বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মের নেতৃবৃন্দ আলেম-উলামাদেরকে মৌলবাদী আখ্যায়িত করে তাদের ঘাড় মটকিয়ে দেওয়ার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এ উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় প্রতিবাদী তৌহিদী জনতা তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করবে। তখন সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের লাগামহীন ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণেই সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এদের লাগাম টেনে না ধরলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে এবং সরকারের প্রতি জনরোষ বাড়বে।

তিনি বলেন, অলি আউলিয়ার পূণ্যভূমি মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। সরকার ক্ষমতার জোরে এহেন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে চেষ্টা করলে এ দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস : শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্য ‘ঘাড় মটকিয়ে দিবো” এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, হুমকি দমকি দিয়ে ইসলামের অগ্রযাত্রা ঠেকানো যাবে না। মুসলমানরা ঈমান বাঁচাতে রক্ত ও জান দিতে প্রস্তুত রয়েছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল যে ঔদ্ধত্যপুর্ন বক্তব্য দিয়েছে তার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

বাংলাদেশ ইমাম মুসলিম ঐক্য পরিষদ : যাত্রাবাড়ী মিরহাজারীবাগস্থ একটি মাদরাসায় বাংলাদেশ ইমাম মুসলিম ঐক্য পরিষদের জরুরি পরামর্শ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, একজন শিক্ষা উপমন্ত্রীর উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে কোটি কোটি তাওহিদী জনতার ঈমানি দাবি ও বঙ্গবন্ধুর সর্বোচ্চ সম্মানকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। দায়িত্ব জ্ঞানহীন উপমন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে সকল প্রকার পদ থেকে বহিস্কার করতে হবে। নওফেলের বক্তব্যে কেবল মাত্র ইসলাম বিরোধি মনোভাবই প্রকাশ পায়নি বরং স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানের প্রতি চরম বেয়াদবি বর্হিপ্রকাশ ঘটেছে। পরামর্শ সভায় আল্লামা রশিদ আহমদের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন, মুফতি শফিকুল ইসলাম, উপদেষ্টা মুফতি মনিরুজ্জামান, পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুর্শিদুল আলম, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ, যুগ্ম সেক্রেটারি মুফতি রুহুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হামিদী ও মুফতি শফিক সাদি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে উপমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আহ্বায়ক মুফতি হাফিজুল হক ফাইয়াজ আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, শিক্ষা-উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাস্কার্যের নামে মূর্তির পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে  এদেশের তাওহিদী জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নাস্তিকদের সহযোগী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। তার মনে রাখা উচিৎ,বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের একার সম্পদ নয়। তিনি স্বাধীন বাংলার ৯২ ভাগ মুসলিম জনগণেরও সম্পদ৷ কারণ তিনি তার গোটা জীবনে ইসলামের জন্য বহুবিধ খেদমত করে গেছেন৷ শিক্ষা-উপমন্ত্রীর 'ঘাড় মটকে দেবার' মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য বাংলাদেশের সমস্ত মুসলমানের হৃদয়কে রক্তাক্ত করেছে৷ নওফেলের বক্তব্য অতিসত্বর প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় তাকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মতো বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি৷

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য