কাদিয়ানীদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে: পীর সাহেব বাহাদুরপুর


জাগো প্রহরী :
কাদিয়ানীদেরকে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের আমীর, হাজী শরীয়াতুল্লাহ রহ. এর সপ্তম পুরুষ, আল্লামা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান পীর সাহেব বাহাদুরপুর বলেছেন,

মিথ্যা নবুওয়ত দাবিদার মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে সংগঠিত ইয়ামামার যুদ্ধে বারো জন সাহাবী শহিদ হয়েছিলেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে আকিদায়ে খতমে নবুওয়ত হেফাজত হয়েছিলো। বাংলাদেশেও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষনার দাবি আদায় করতে হলে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হবে।

কাদিয়ানীরা শুধু ইসলামের শত্রু নয়, তারা দেশ ও বিশ্ব মানবতার শত্রু বলে অভিযোগ করে  তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের। এ ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত। যারা তাদের কাফের মনে করে না তারাও কাফের। তাদের কুফরির ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নাই। পৃথিবীর প্রায় অনেক মুসলিম দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে তারা কাফের। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যতিক্রম।

আজ শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন এর উদ্যোগে ফ্রান্সে সরকারকর্তৃক মহানবীর সা. এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন ও ধোলাইপাড়ে মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং কাদিয়ানীদেরকে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল পূর্ব সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন এর প্রচার সম্পাদক মাওলানা আবুল বাশার ফরায়েজী ও মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন-এর সহ-সভাপতি পীরজাদা মুবীনুদ্দীন আহমদ নওশী মিয়া,  মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহমান খান ফরায়েজী, পীরজাদা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ মুহসিন, পীরজাদা হাফেজ মাওলানা তোয়াহা, পীরজাদা হাফেজ মাওলানা হানজালা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর হুসাইন ও দফতর সম্পাদক হাফেজ মাওলানা কামাল হোসাইন। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিগণ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

প্রতিবাদ সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, মসজিদ পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট জায়গা, মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের পবিত্র স্থান৷ কাদিয়ানীরা কাফের, কাফেরদের কোনো মসজিদ হতে পারে না। নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত ইত্যাদি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিভাষা। কাদিয়ানীরা কাফের তাই মুসলমানদের কোনো পরিভাষা ব্যবহার করে তারা তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচার করতে পারে না৷ এটা ইসলাম ধর্মের অবমাননার শামিল৷

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। এ দেশের মুসলমানগণ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি মুহাব্বাত করেন৷ বিশ্বনবী (সা.) এর রিসালতকে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী অমুসলিমদের আস্ফালন এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা মেনে নেবে না।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে এদেশের হিন্দুরা হিন্দু নামে, বৌদ্ধরা বৌদ্ধ নামে এবং খ্রিস্টানরা খ্রিস্টান নামে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করছে৷ কিন্তু কাদিয়ানী অমুসলিমরা মুসলমান নাম ধারণ করে সরলমনা সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমানবিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে৷ যা ইসলাম ধর্মের নামে অপপ্রচারের শামিল। তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, তাদের অমুসলিম ঘোষণা করলে তারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় রীতিনীতি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মত পালন করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বক্তারা আরো বলেন, আপনার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবদ্দশায় অনেক ইসলামী কাজ করে গেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো, কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষনার পক্ষে সমর্থন দিয়েছিলেন। সুতরাং তার অসমাপ্ত কাজ সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করে সমাপ্ত করতে হবে।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য