অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিচারভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম: মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ


জাগো প্রহরী :
গত ২ নভেম্বর সোমবার দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর ফ্রান্সদূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল । প্রচণ্ড উত্তাপ ছড়িয়ে সম্পন্ন হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষ আলেম উলামা এবং আপামর তাওহিদি জনতা। অংশ নিয়েছে লাখো নবীপ্রেমিক। রাজধানী ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডের শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ শারীরিক অসুস্থতায় অংশ নিতে পারেননি।  মিযানুর রহমান সাঈদ দেশের  একজন শীর্ষ আলেম এবং প্রতিনিধিত্বশীল মুফতি।  তার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার ছাত্রদের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসুচিতে অংশ গ্রহণ নিয়ে  বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি এই  বিভ্রান্তির  ওয়াজাহাত ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই চরম অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিচারভার আল্লাহর উপর  দিয়েছেন। ওয়াজাহাতনামাটি জাগো প্রহরী টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ-এর ওয়াজাহাত

বর্তমানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আমাদের বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্রের কার্টুন প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো মুসলিম বিশ্বের সাথে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তার প্রতিবাদে আজ বিশ্বের মুসলমান কঠিন থেকে কঠিন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

বাংলাদেশের মত একটি ছোট মুসলিম দেশ এই প্রতিবাদে সকলের সম্মুখকাতারে দাঁড়িয়ে আছে। এই মহান জিহাদে সবচে’ বেশি ভূমিকা পালন করছে উলামায়ে দেওবন্দ। আমি আশা করি যতদিন পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মুসলিম জাতির কাছে ক্ষমা না চাইবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আরো কঠিন কর্মসূচিতে অবতীর্ণ হতে হবে।

এ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, সমমনা ইসলামী দলসহ যারা যারা এই পবিত্র জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। বড় ভূমিকা পালন করেছেন সকলেই নিজ নিজ ঈমানী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং যাবেন।

আমি দীর্ঘ পঁচিশ দিন থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছি। তা সত্বেও গত শুক্রবার এলাকার আঈম্মা, খুতাবা , মারকাযুশ শাইখ যাকারিয়ার সকল ছাত্র ওস্তাদ ও এলাকার সর্বস্তরের তৌহিদি জনতাকে নিয়ে কুড়িল বিশ্বরোডে প্রায় পঞ্চাশ হাজার নবীপ্রেমিকের এক কাফেলাসহ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল  পরিচালনা করার তাওফিক হয়েছে।

গত  সোমবার  (২ নভেম্বর)  দেশের সর্ববৃহত অরাজনৈতকি সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।  কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের একান্ত ইচ্ছা ছিলো, কিন্ত শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোটেও হিম্মত পাইনি। তবে সকাল নয়টার দিকে হেফাজতের এক শীর্ষ নেতার আমন্ত্রণ পেলে যাওয়ার কিছুটা সাহস করি।

সাথে সাথে বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে মাদরাসায় আসি। তৎক্ষণাৎ ছাত্র-শিক্ষকদেরকে নিয়ে রওনা করার ইচ্ছা পোষণ করে বের হবার পূর্বমুহূর্তে রাস্তায় বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হবার সংবাদ পাই। তখন এই অসুস্থ শরীর নিয়ে সে বাধা ডিঙিয়ে যাওয়ার হিম্মত হারিয়ে ফেলি। (ইদানিং ব্যাক পেইন ও দুর্বলতার কারণে পায়ে হেঁটে চলা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।)

আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে এই ইস্যুতে ওলামায়ে হক্কানীর যারাই ডাক দেবেন তাদের সাথে অংশগ্রহণ করা। কে ডাকলো তা না দেখে কেন ডাকলো তা দেখা। আর যদি সে ডাক হয় হেফাজতে ইসলামের তাহলে তো “নুরুন আলা নূর”। কিন্ত বড় পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে একজন কওমী ঘরনার মিডিয়া পার্সন। তিনি আমার প্রতিষ্ঠান নিয়ে আজ এক ডাহা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। আমার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদেরকে নাকি ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কাউকে নিষেধ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে সময় স্বল্পতার কারণে ছাত্রদেরকে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়নি। যদি নয়টার ফোনটি সকাল ছয়টায় পেতাম তখন আমাকে এবং সকল ছাত্রদেরকে বায়তুল মুকাররমে উপস্থিত দেখা যেত ।

আমি মনে করি দায়িত্বশীল কওমী ঘরানার কোন ব্যক্তি এমন মিথ্যাচার করতে পারে না। একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিচারভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। لعنة الله علي الكاذبين ( মিথ্যাবাদীদেরউপর আল্লাহর অভিশাপ)

আরো বড় দুঃখের বিষয়, বিগত বৃহস্পতিবার ছাত্রদের অধিক অনুপস্থিতি দেখে মারকাজের কানুন অনুযায়ী মারকাজের কানুন লঙ্ঘন করে যারা এলোমেলো করেছে তাদের জন্য কানুনী গেরেফত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। যেটা প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার।

ওই মিডিয়া পার্সন এই বিষয়টি নিয়ে উস্কানিমূলক সংবাদ প্রচার করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর অর্থ কী দাঁড়ায়? তাহলে কী কার প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে, কখন কী কানুন প্রয়োগ হবে তাও কি তাকে জিজ্ঞাসা করে করতে হবে? বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। অবশেষে আমি অনুরোধ করবো দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো মোটেই উচিত নয়। كلكم راع و كلكم مسؤول عن رعيته এই হাদীসের উপর দৃষ্টি রাখা উচিত । দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা কাওমী মাদরাসাকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

জাগো প্রহরী/এফজে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য