বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন তাঁর আত্মাকে কষ্ট দেয়ার শামিল: মাওলানা মামুনুল হক


জাগো প্রহরী :
বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন তাঁর আত্মাকে কষ্ট দেয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সু-সন্তান হতে পারে না। এর মাধ্যমে মসজিদের শহরকে মূর্তির শহরে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে। এ মূর্তি স্থাপন বন্ধ করুন। যদি আমাদের আবেদন মানা না হয় আবারও তাওহিদি জনতা নিয়ে শাপলা চত্ত্বর কায়েম হবে।

আজ শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল ৩ টায় রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ‘শানে রিসালাত কনফারেন্স’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কনফারেন্সে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকীবুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, যারা সরকারের দায়িত্ব পালন করছেন তারা বাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে কাজ করুন। বাংলাদেশের সঙ্গে ওইআইসির পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত্ব হতে দেওয়া হবে না। আজ বাংলার টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ইসলামের যে ডাক উঠেছে তা দমানো সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে এ দেশে থেকে ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। ওয়াজ মাহফিলে ৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমরা বেশি দিন নিরব থাকবো না। একটা সময় পর্যন্ত সহ্য করবো। তারপর ১৪৪ ধারা জারি ভাঙতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করবো না।

তিনি বলেন, যারা আমার নবীর সম্মানকে কলঙ্কিত করতে চায় তারা শুধু আমার নবীর দুশমন নয়, তারা বিশ্ব মানবতার দুশমন। নবীর দুশমনরা শুনে রাখো, পৃথিবীর প্রতিটি ইঞ্চি ইঞ্চি মাটিতে, পৃথিবীর প্রতিটি ভূখন্ডে আমার নবীর আদর্শ বাস্তবায়িত হবে। একদিন আমেরিকার হোয়াইট হাউজ থেকে নিয়ে রাশিয়া, মস্কো ও চীনের বেইজিং এ ইসলামের পতাকা উড্ডীন হবে। শার্লি এবদো পত্রিকাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে যে ৪০টি রাষ্ট্রপ্রধান সমর্থণ জানিয়েছে সেদিনই আমরা বুঝতে পেরেছি বিশ্বের দেড়শ’ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আগুন জালিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম একটি অপরিহার্য বাস্তবতা। ইসলাম হবে এ দেশের চূড়ান্ত গন্তব্য। ষড়যন্ত্র করে এ বাস্তবতাকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এবারের জাগরণ আর উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আল্লামা বাবুনগরীর কাছে পরাজিত অপশক্তি পর্দার আড়ালে আবারও জেগে উঠার চেষ্টা করছে। আমরা ফুৎকার দিয়ে এ ষড়যন্ত্র নিভিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ। এ দেশের কোনো অপশক্তি আমাদের এ ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরাতে পারবে না।

মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফের সঞ্চালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, ইসলামী যুব খেলাফত বাংলাদেশের সভাপতি মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কুরবান আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ আরমান, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সাবেক সহ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা তাফহীমুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মুফতি আল আমিন, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুফতি হোসাইন মোহাম্মদ কাওছার বাঙালী, ঢাকা মহানগরীর উত্তরা আজমপুর থানার সভাপতি মাওলানা মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা শরীফ হুসাইন, ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, ঢাকা মহানগরীর প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা হাশমতুল্লাহ, ঢাকা মহানগরীর মজলিসে আমেলার সদস্য মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকী, উত্তরা জোনের সভাপতি মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আমীন, উত্তরা আজমপুর থানার সভাপতি মাওলানা হাবীবুল্লাহ সিরাজ, মজলিসে আমেলার সদস্য মাওলানা রুহুল আমিন, মজলিসে আমেলা সদস্য মাওলানা আবুল হোসাইন, ঢাকা মহানগরীর দপ্তর সম্পাদক মুফতী শহীদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মীর আহমাদুল্লাহ।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য