বাংলাদেশে ধর্মীয় সভা ও মাদরাসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের দাবি ২১ বিশিষ্ট নাগরিকের


জাগো প্রহরী : 
বাংলাদেশে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। রোববার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ধর্ষণ প্রতিরোধে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।  

তাদের বিবৃতিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হচ্ছে, “ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা দিয়ে নিরন্তর নারী অবমাননাকর বক্তব্য থেকে মৌলবাদীদের নিবৃত করতে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।“ 

এছাড়াও ‘মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রমকে সরকার নিয়ন্ত্রিত করা’র দাবিও করেছেন এ বিশিষ্ট নাগরিকরা।

বিবৃতিদাতারা উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশে অনেক আইন রয়েছে কিন্তু এর সঠিক প্রয়োগ ঘটছে না। তাতে করে আইন তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রয়োগকারীর ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এ অবস্থায় আমরা দ্রুততম তদন্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার তাগিদ জানাই। বিদ্যমান আইনের অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে আইনটিকে নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীর অনূকুলে সংশোধনী আনার জোর দাবি জানাই।“

বিশিষ্টজনরা আরো বলছেন, “শুধুমাত্র আইন সংস্কার ও শাস্তি প্রদান করে এই জঘন্য অপরাধ থামানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশে সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিশুদ্ধতা।”  আর এই ‘পরিশুদ্ধতা’র জন্য বিবৃতিদাতারা মাদ্রাসা শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষার প্রতি তাদের একপেশে ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছেন।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, ডা. সারোয়ার আলী, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রমুখ।

এদিকে বিশিষ্ট একুশ জনের বিবৃতি প্রসঙ্গে জাতীয় তাফসীর পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে কোনো কোনো মহল মাদ্রাসা শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। সেকারণেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি বলে কথিত কয়েকজন নাগরিক মাদ্রাসা ও ওয়াজ মাহফিল সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য  দিয়েছেন। 

মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম উল্লেখ করেন, ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশী সম্মান ও সম্ভ্রমপূর্ণ স্থান দিয়েছে। নারীদের জন্য সমঅধিকার নয় বরং অগ্রাধিকার দিয়েছে ইসলাম। সেটা অনুসরণ করলেই সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

ওদিকে, নারীর প্রতি ব্যাভিচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধসহ ছয় দফা দাবিতে সমমনা ইসলামী দলগুলো ২২ অক্টোবর বাদ জোহর ঢাকার বায়তুল মোকাররমে ও ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এছাড়া চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ২৩ অক্টোবর বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ৷

জাগো প্রহরী/এফজে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ