'মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে'


জাগো প্রহরী : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে ৩১ জন মুসল্লি নিহত ও অনেকে আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, কেবল দুর্নীতিবাজদের চাহিদা পুরণ করতে না পারায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ হয়ে এভাবে ৩১টি তাজা প্রাণের শাহাদাত বরণ করা সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, মসজিদে সরকারি প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস কোম্পানীর দুর্নীতিবাজদের চাহিদা পুরণ করতে না পারায় গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে আল্লাহর মেহমানরা সিজদারত অবস্থায় শাহাদাতবরণ করলো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করার মত ফুরসত হয়নি, এমনকি সরকারের শীর্ষ নেতাদের সেখানে পরিদর্শন করারও সুযোগ না হওয়া খুবই দুঃখজনক। সেই সাথে এতগুলো প্রাণ চলে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রস্তাব পাশ না করা দুর্ভাগ্যজনক।

আজ ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বাদ জুমা নারায়ণঞ্জে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, নুরুল ইসলাম নাঈম, ডা. শহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, হুমায়ুন কবির, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, ছাত্রনেতা ইমরান নূর, শ্রমিকনেতা শাহাদাত হোসেন প্রধানিয়া প্রমুখ।

প্রিন্সিপাল মাদানী আরো বলেন, সরকার চোখে অবৈধের চশমা লাগিয়েছে, ফলে মসজিদকেও অবৈধ বলতে দ্বিধা করছে না। তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট হওয়ার আগেই সরকার প্রধানের এমন মন্তব্য বেমানান। এতে করে দোষীরা আড়াল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যাদের কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটলো কোনভাবে দোষীদের নির্দোষ বানানোর চেষ্টা করলে সারাদেশে সাড়ে তিন লক্ষ মসজিদ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ শাহাদাত বরণকারীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তিতাস গ্যাস এর দুর্নীতিবাজদের অবৈধ দাবী পূরণ না করার কারণে গ্যাস লিকেজ মেরামত না করে অবহেলা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সরকার এর দায়ভার কিছুতেই এড়াতে পারবে না। মুসল্লি হত্যার দায়ে তিতাসে  দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি সেক্টর দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সরকার নিজেও দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, সরকার নিজে অবৈধ হওয়ায় এখন মসজিদকেও অবৈধ বলছে। মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিকট লিকেজ ঠিক করে দেয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও ৫০ হাজার টাকা উৎককোচ না দেয়ায় তাদের অবহেলায় যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাকে দুর্ঘটনা হিসেবে নয়, হত্যাকাণ্ড হিসেবে আমলে নিয়ে কর্তব্য পালনে অবহেলাকারীদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। 

পরে একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর পৌছলে তারাকাটা দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলের গতি রোধ করে পুলিশ। সেখানেই নেতৃবৃন্দ মুনাজাতের মাধ্যমে মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য