কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদের ইন্তেকাল


জাগো প্রহরী : কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মঙ্গলবার ৯১ বছর বয়সী এ শাসক যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। কুয়েতের বার্তা সংস্থা কুনার বরাতে এ খবর দিয়েছে দেশটির প্রথম সারির পত্রিকা আল আরাবিয়া।

কয়েকমাস আগে অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শেখ সাবাহ আল-আহমদ। তখন থেকে তারই বৈমাত্রেয় ভাই ও দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ নাওয়াফ আল-আহমেদ আল-সাবাহ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।

শেখ সাবাহ ২০০৬ সাল থেকে কুয়েতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করা শেখ সাবাহকে আধুনিক কুয়েতের পররাষ্ট্রনীতির স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি ১৯৬৩ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আঞ্চলিক বিরোধের মূল মধ্যস্থতাকারী, মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও একজন শীর্ষস্থানীয় সমাজসেবক হিসাবে পরিচিতি ছিলেন শেখ আল সাবাহ। সৎ ভাই শেখ জাবের আল-সাবাহের মৃত্যুর পরে ২০০৬ সালে কুয়েতের আমির হিসেবে অভিষিক্ত হন তিনি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মিত্র কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল সাবাহকে বিশেষ সামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণে আমির অসুস্থ থাকায় সেটি গ্রহণ করেন তার ছেলে শেখ নাসের সাবাহ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ।

এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আব্রাহাম একর্ডসের অধীনে ইসরাইলের সঙ্গে পরবর্তী আরব দেশ হিসেবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে কুয়েত। কিন্তু আমিরের এ মৃত্যুতে চুক্তি হয়ত আপাতত পিছিয়ে যাবে।

সৌদি বাদশাহ কিং সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে হাত ধরে হাঁটছেন কুয়েতি আমির শেখ সাবাহ।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার সাথে শেখ সাবাহ দ্রুত কয়েকটি আঞ্চলিক বিবাদে কুয়েতকে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসাবে স্থাপন করেছিলেন।

১৯২৯ সালের ১ জুন কুয়েতে জন্মগ্রহণ করা শেখ সাবাহ ছিলেন শেখ আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহের চতুর্থ পুত্র। আল-মুবারাকিয়া স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পরে তিনি টিউটরের অধীনে পড়াশোনা শেষ করেন। ক্ষমতায় আসার আগে শেখ সাবাহ ১৯৯৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯২ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত আবার উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কুয়েতের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিমনের মতে, ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করে তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে আমির শেখ সাবাহ আমেরিকানদের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে “কুয়েতের চেহারা” হয়ে উঠে ছিলেন।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ