আফগান-তালেবান ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শুরু


জাগো প্রহরী : কয়েক মাস পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কাতারের উদ্যোগে আফগানিস্তান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

বিবিসি জানায়, আজ শনিবার কাতারে দুই পক্ষের মধ্যে এ বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকের সূচনা করতে দোহায় উড়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

আফগানিস্তানে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দেশে শান্তি ফেরানোর পথ প্রশস্ত করতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি তলেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ওই চুক্তির পরপরই আফগান সরকার ও তালেবানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে তালেবান তাদের কারাবন্দি প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। যাতে মোটেও রাজি ছিলেন না আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি।  তাই শুরুতে তিনি তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে চাননি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে গত অগাস্টে আফগান আইনসভা ‘লয়া জিরগা’ তালেবান বন্দিদের মুক্তির অনুমোদন দেয়।

প্রতিশ্রুতি মোতাবেক অগাস্টেই তালেবান কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়াদের মধ্যে আফগান ও বিদেশিদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত হওয়া তালেবান সদস্যরাও ছিল।

বিবিসি জানায়, আফগানিস্তান সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার কবুল থেকে কাতারের দোহায় রওয়ানা হন।

১৯ বছর আগে ঠিক এই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলা চালায় আল কায়দা। যার ফলশ্রুতিতে জঙ্গিদল আল কায়দাকে ধ্বংস করতে আফগানিস্তানে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে তালেবান শাসনের অবসান ঘটায়।

দোহায় রওয়ানা হওয়ার সময় আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা শুধু একটি সম্মানজনক শান্তি চুক্তি চাই।”

আফগান প্রতিনিধি দল রওয়ানা হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার তালেবানের পক্ষ থেকেও দোহার বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ওই দিনই তালেবানের শেষ ছয় কারাবন্দিকে মুক্তি দেয় আফগান সরকার।

এটিই আফগান সরকারের প্রতিনিধি ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতদিন তালেবান দেশটির সরকারকে ‘ক্ষমতাহীন’ ও ‘আমেরিকার হাতের পুতুল’ বলে বর্ণনা করে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। উভয় পক্ষই এখন রাজনৈতিক পুনর্মিলনের মাধ্যমে দেশে শান্তি ফেরাতে চাইছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পর মার্চেই এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তালেবান কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়া নিয়ে মতবিরোধে সেটা আর সম্ভব হয়নি। তালেবান নেতারা তাদের একজন সদস্যও কারাগারে থাকা অবস্থায় এই বৈঠকে বসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য