মৃত্যুর ২১ বছর পরও অক্ষত দ্বীনদার মুজাফ্ফরের লাশ



জাগো প্রহরী : মাঝে মাঝে বিজ্ঞানের বাহ্যিক হিসাব-নিকাশকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে মহান আল্লাহ তার অপার কুদরতের কিছু কিছু নিদর্শন প্রকাশ করেন। যাতে অবিশ্বাসী-সংশয়বাদীরা উপদেশগ্রহণ করে ফিরে আসে। আর ঈমানদাররা নিজেদের ঈমানকে আরো সুদৃঢ় করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ঝালকাঠির সদর উপজেলায়।

মৃত্যুর একুশ বছর পর ঝালকাঠিতে কবর থেকে মুজাফ্‌ফর আলী হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির অক্ষত লাশ উত্তোলন করেছে তার পরিবার।  জেলার সদর উপজেলার ৮নং গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরকাঠী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা এগারোটার দিকে মুজাফ্‌ফরের ছেলেরা কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এ ঘটনার সাক্ষী হতে মুজাফ্‌ফরের ছেলে আবুল বাসারের বাড়িতে উৎসুক লোকজন ভিড় করে ।

স্থানীয়রা জানান, চরকাঠি গ্রামটি বিশখালী নদীর পাড়ে হওয়ায় অনবরত ভাঙনের ফলে বিলীন হওয়ার পথে। একুশ বছর আগে পঁচাত্তর বছর বয়সে দ্বীনদার মুজাফ্ফর আলী হাওলাদার যখন মারা যায় তখন চরকাঠী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়। মুজাফ্‌ফরের মৃত্যুর সময় কবরস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিশখালী নদী ছিল। এখন কবরস্থানটি নদীগর্ভে বিলীন হ‌ওয়ার উপক্রম হলে পরিবারের লোকজন এটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। 


জনাব মুজাফ্‌ফরের বড় ছেলে আবুল বাসার বলেন, আমরা পরিবারের লোকজন ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে কবর খুঁড়ে বাবার লাশ উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। এখন আমরা আমাদের বৈদারাপুরের নতুন কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে বাবাকে পুনরায় দাফন করব।

বাসার আরও বলেন, আমরা যখন বাবার কবর উত্তোলন করতে যাই তখন বাবার কবর ছাড়া চারিদিক নদীতে ভেঙে গিয়েছিল। শুধু বাবার কবরটি অক্ষত ছিল। বাবার কবরের চারিদিক নদীতে ভেঙে গেলেও কবরের ভেতর একটুও পানি ওঠেনি।

গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি মুজাফ্‌ফর আলীর লাশ দেখেছি। শুধু লাশের শরীরের চামড়া শুকিয়ে গেছে এবং লাশের গায়ের কাপড়ও একই অবস্থায় আছে, একটুও নষ্ট হয়নি।

ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবুয়াল হাসান বলেন, এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে মমির যুগে বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে লাশ প্রক্রিয়াজাত করা যেত। আসলেই লাশটি কবরে এভাবে অক্ষত ছিল কিনা, থাকলে তা গবেষণা করে বলতে হবে।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ