মোশতাকের কেবিনেটের ২৩ মন্ত্রীর ২২ জনই বাকশালের : রিজভী


জাগো প্রহরী : খন্দকার মোশতাকের কেবিনেটের ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই বাকশালের মন্ত্রী ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৫ আগস্টের সময় জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু ১৫ আগস্ট রাত পর্যন্ত যারা মন্ত্রী ছিলেন তারা গিয়ে শপথ নিলেন খন্দকার মোশতাকের কেবিনেটে। খন্দকার মোশতাকের কেবিনেটের ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই বাকশালের মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাকশালের মন্ত্রিসভা ছিল। সেই মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা মোশতাকের কেবিনেটে শপথ নিলেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর তিনজন প্রধান খন্দকার মোশতাকের কাছে গিয়ে আনুগত্য করলেন। জিয়াউর রহমান তো যাননি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ৭১’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসে বাকশাল-দুর্ভিক্ষ শুধু এগুলোই আছে। তাদের ইতিহাসে শুধু বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, মানুষ হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা। তার জন্য বিএনপির প্রতি তাদের এত বিদ্বেষ।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান এদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের ক্ষমতায় আবির্ভূত হন। তারপর আওয়ামী লীগ যত অপকর্ম করেছে সেখান থেকে শুভদিক যেটা সেখানে তিনি দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। তারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারা গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে জিয়াউর রহমান তা খুলে দিয়েছেন। এই যে পার্থক্যটা একটি ইতিবাচক, ন্যায়ের পক্ষে গণতন্ত্রের পক্ষে। তাদের কাজ হচ্ছে শুধু হত্যা। শুধু মানুষ হত্যা নয়, বিরোধী দল হত্যা, গণতন্ত্র হত্যা। স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো গণতন্ত্র সেটাকে তারা হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল সত্তরের নির্বাচনে। যে কারণে সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল জনগণ তার প্রত্যেকটা সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দলটি। একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছে কিন্তু নেতৃত্ব দেয়নি তারা। স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর। এ জন্যই জিয়া পরিবারের প্রতি, জিয়াউর রহমানের প্রতি তাদের এত ক্ষোভ এত জ্বালা।

রিজভী বলেন, পাঁচ আসনে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের নেত্রী দুই আসনে পরাজিত হয়েছেন আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনেই নির্বাচিত হয়েছেন। এই যে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, এই যে বিপুল জনপ্রিয়তা এটা কখনোই শেখ হাসিনা পছন্দ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র বিজয়ের আন্দোলনের যে চ্যাম্পিয়নশিপ বেগম খালেদা জিয়া অর্জন করেছেন সেখানে একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং তার নেত্রী প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। দেশের জনগণের কাছে গিয়ে যে সব অঙ্গীকার করেছেন তা রক্ষা করেছেন দেশনেত্রী বেগম।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ