রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে ৩টি শর্ত রাখছে নির্বাচন কমিশন



জাগো প্রহরী : নির্বাচন কমিশনের তিনটি শর্ত পূরণ করতে না পারলে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হতে পারবে না। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের খসড়ায় এ শর্ত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। তবে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় প্রথম দুটি শর্তই বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের শর্তকে অবাস্তব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকরা। 

২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর তিনটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর তখন থেকে অনিবন্ধিত কোনও দলের নির্বাচন করার সুযোগও নেই। 

২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-যেখানে ৯টি দল অংশ নেয়, ১৭টি দলের অংশগ্রহণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৫ই জানুয়ারি ২০১৪ তে, আর ৩৯টি দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮।

তারপরও রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের তিনটি কঠোর পূর্বশর্ত দিয়ে নিবন্ধন আইনের খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। যার অন্তত দুটি পূরণ করতেই হবে।  

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, রাজনীতিতে যাতে একটি সুন্দর পরিবেশ থাকে, জনগণের সঙ্গে যাতে সমন্বয় থাকে তার জন্যই এই পরিবর্তন। এটি কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা না।

প্রথম শর্তে বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে আবেদন জমা দেয়ার তারিখের ঠিক আগের দুটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে অন্তত একটি আসনে জয়লাভ করতে হবে।

ওই দুই সংসদ নির্বাচনের যেকোনও একটিতে আবেদনকারি দলের অংশ নেওয়া আসনে পড়া মোট ভোটের পাঁচ ভাগ পেতে হবে বলে দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে।

কিন্তু অনিবন্ধিত কোনও দলের পক্ষে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় এ দুটি শর্তই অবাস্তব- বলছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এসব শর্তের ফলে দেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা আরও কমে যাবে। অনেকগুলো দলকে কিন্তু এমনিতেই আসন দেয়া হয়েছে সেই দলগুলো থাকবে। কিন্তু যাদের মাঠে অস্তিত্ব আছে কাজে আছে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এটি রাজনীতির জন্য একটি কালো আইন।

নিবন্ধন পেতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলা এবং একশ’ উপজেলায় কমিটিসহ দলীয় কার্যালয় থাকার তৃতীয় শর্তটি বিদ্যমান আইনেই রয়েছে। 

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনে এমন ধরণের শর্ত কোনভাবেই কাম্য নয় বলছেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে হলে আমাদের নির্বাচন পদ্ধতি বদলাতে হবে। এটি বদলালেই নতুন নতুন দল এবং যেকোন ভাব্ধারার দলকে নিবন্ধিত করাটা অর্থপূর্ণ হবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নির্বাচন কমিশনের পুরো ব্যবস্থাতেই আমরা তান্ত্রিক। আমরা তান্ত্রিক মানসিকতা থেকেই এরা এই বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। আমরা মনে করি এটি রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মৌলিক অধিকারের সঙ্গেও এটি সাংঘর্ষিক।

তাদের মতে, সময়ের সাথে সাথে নতুন আইন হতেই পারে। তবে নাগরিকের অধিকার খর্ব করে এমন কোন শর্ত আরোপ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, যৌক্তিক পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু যে পরিবর্তন নাগরিকের অধিকার খর্ব করবে বা সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ন নয় এমন পরিবর্তন কোনভাবেই যৌক্তিক হবে না।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্রের অস্তিত্ত্ব অনুভব করাটা প্রত্যেক নাগরিকের যখন সমভাবে হয় সেটি গণতন্তের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু সেখান থেকে যদি কিছু অধিকার কেড়ে নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে দেয়া হয় সেখানে গণতন্ত্র বিকশিত হয় না।

তবে আইনের নামে নির্বাচন কমিশন যাতে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে জনপ্রতিনিধিদের সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন তারা।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ