নীরব প্রার্থনায় উদযাপিত হলো রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস


জাগো প্রহরী : মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে শরণার্থীরা মিয়ানমারে নিহতদের মাগফেরাতের জন্য নীরব প্রার্থনার মাধ্যমে গণহত্যার তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপন করেছে।প্রায় পনের লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারে অস্থায়ী বসতিগুলিতে বসবাস করছে।

২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত মানুষগুলো ২৫ আগস্টকে “রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস” হিসাবে পালন করে আসছে। এদিনটিতে ২০১৭ সনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংস তান্ডব শুরু করেছিল, যার ফলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

রোহিঙ্গা নেতা রহমত করিম বলেন, ” বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং মহামারী বিবেচনা করে আমরা আমাদের শহীদ ও নিপীড়িত মানুষের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে নীরব প্রার্থনার মাধ্যমে এই বছর গণহত্যা দিবসটি পালন করছি।”

এদিকে, আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসসহ ১০ টি রোহিঙ্গা অধিকার সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘকে রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের নৃশংসতাটিকে “গণহত্যা” হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

“আমরা এখনও আমাদের অধিকার পাইনি এবং এখনও মিয়ানমারের সমস্ত রোহিঙ্গা মানুষ এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত এই হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। এর একটি কারণ এটাও যে এখনও জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে জেনোসাইড হিসাবে ঘোষণা করেনি,” বিবৃতিতে তারা বলেছেন।

রোহিঙ্গা প্রবাসীরা জাতিসংঘ, ইইউ এবং অন্যান্য প্রভাবশালী সংস্থাসহ বিশ্বের অভিনেতাদেরকেও রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দয়া করে নির্দোষ রোহিঙ্গার পাশে দাঁড়ান, তাহলে আশা করি আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে আমাদের ঘরে ফিরে যেতে পারব।”

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য