ভাদ্রের বন্যা নিয়ে প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


জাগো প্রহরী : ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে জানিয়ে এ বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থানা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ধান-চালের ঘাটতি এড়াতে রোপা আমনের দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিতে বলেছেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে বন্যা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। আজকে যমুনা নদীর পানি বঙ্গবন্ধু ব্রিজের ওখানে এরই মধ্যে বিপদসীমার বেশ নিচে চলে গেছে। পদ্মা নদীর পানির স্তর ও গতি কমে গেছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের অনুমান আছে যে, আগে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে একটা দীর্ঘমেয়াদি বন্যা। এই যে পানিটা যাচ্ছে এটাও ১৮ থেকে ২০ দিন হয়ে গেছে। ১৮ থেকে ২০ দিন পর পানিটা অনেকটা নিচে নেমে যাচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে সতর্ক করলেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি যদি কোনো বন্যা আসে তাহলে সেটা কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে থাকার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং আমাদের প্রস্তুতিটা ওইখানে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বিশেষ করে দুর্যোগ্য ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মসূচি আছে, একটা প্রকল্প আছে সেই প্রকল্পের এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দিবে দুর্যোগ্য ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা আছে। সেখানে একটা বড় টাকা ধরা আছে যদি কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে যায় ওটাকে তাড়াতাড়ি মেরামত করার জন্য। সে বিষয়ে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন যে, আমনের বীজ যেহেতু নষ্ট হয়ে গেছে এজন্য একটু উঁচু জায়গায় করার জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা কর্মসূচি আছে। বিশেষ করে পানি সহিষ্ণু ভ্যারাইটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, তারা যে নতুন জাত আবিষ্কার করেছেন সেটা ১৫ দিন পানির নিচে থাকলেও নষ্ট হবে না। রোপা আমনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। রোপা আমন ঠিকভাবে হলে আমাদের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। ঘাটতি হবে না গতবারের তুলনায়, গতবার আমনে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ লাখ টন, এবার লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ লাখ টন। সেই তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে তবে গতবারের তুলনায় উৎপাদন আশা করা যাচ্ছে বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ