ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা লেবাননে, উড়ে গেছে এক লাখ ২০ হাজার টন খাদ্য ভাণ্ডার!


জাগো প্রহরী : গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেশটির মজুদ খাদ্যশস্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। আমদানীকৃত খাদ্যশস্যের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল লেবানন। বিস্ফোরণের ফলে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এএফপি ও গার্ডিয়ান।

লেবাননের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী রাউল নেহম বলেছেন, বিস্ফোরণ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই তার দেশের। তিনি এই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে শত শত কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

শুধু তাই নয়, প্রধান শস্য ভাণ্ডারটিও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি তার। ওই শস্য ভাণ্ডার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সে দেশে এখন যে পরিমাণ শস্য মজুত রয়েছে তাতে বড়জোর আর এক মাস চলবে বলে মনে করছে সরকারের কর্মকর্তারা।

বৈরুত বন্দরের পাশে যে জায়গাটিতে প্রবল এই বিস্ফোরণ ঘটে তার ঠিক পাশের সাদা রঙয়ের বিশাল ভবনটি হল লেবাননের প্রধান খাদ্য ভাণ্ডার। দিনের পর দিন বিদেশ থেকে শস্য আমদানি করে ওই সাদা বাড়িতেই মজুত করা হতো। বিস্ফোরণের তীব্রতায় এক লাখ ২০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার এই ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে খাদ্য ভাণ্ডার। এতে ভীষণ বিপাকে পড়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তবে সে দেশের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আসলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসায় সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে বৈরুতে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল আরো দুই বাংলাদেশী আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত ১০৬ জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫ জন প্রবাসী কর্মী ও ২১ জন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য। বৈরুতের বন্দরের কাছে ওই বিস্ফোরণে চারজন প্রবাসী কর্মী মারা গেছেন। দেশটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাজে যুক্ত থাকায় বৈরুত বন্দরে উপস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’-এর ক্ষতি হয়েছে।

ব্রিটেনের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের ধারণা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার শক্তির ১০ ভাগের এক ভাগ বৈরুতের বিস্ফোরণে দেখা গেছে। তারা বলছেন, ‘সন্দেহাতীতভাবেই এটি ইতিহাসের অন্যতম বড় অ-পারমাণবিক বিস্ফোরণ।’

বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে তিনদিনের শোক পালন করছে লেবানন। দুই সপ্তাহের জন্য জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইরান, ইসরায়েল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লেবাননকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য