মা-মেয়েকে নির্যাতন ও রশিতে বেঁধে ঘোরানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি



জাগো প্রহরী : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ে মা-মেয়েকে ‘গরুচোর’ অপবাদ দিয়ে বেঁধে পেটানো ও রশি বেঁধে ঘোরানোর ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিযার্তনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এর মধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ওই তদন্ত কমিটির প্রধান হচ্ছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায়। অপরদিকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈয়দ শামশুল তাবরীজ তদন্ত কাজে ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

রোববার রাতে সাংবাদিকদের এ সব তথ্য নিশ্চিত করে চকরিয়ার ইউএনও মো. সৈয়দ শামশুল তাবরীজ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে আমাদের তদন্তে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে এ ঘটনায় চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেব একটি সুয়োমোটো আদেশ দিয়েছেন চকরিয়ার এএসপি সার্কেল কাজী মো. মতিউল ইসলামকে। তাকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারের সীমান্ত চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ছবি প্রকাশের পর শনিবার রাতে সেটি ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। 

তিন নারীসহ পাঁচজনকে নির্যাতনের এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার শিকার দুই নারীর গায়ে বারবার হাত দিয়ে চৌকিদার তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায় গুরুতর আহত এক নারী কোমরে রশি বাঁধা অবস্থায় মাথা হেলে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। 

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, কোমরে রশি বেঁধে দুই নারীকে প্রকাশ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন। তাদের পেছনে রয়েছে আরও অনেক মানুষ।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য