গুম-বিচারবর্হিভূত হত্যার ‘আন্তর্জাতিক তদন্ত’ চায় বিএনপি


জাগো প্রহরী : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে রবিবার (৩০ আগস্ট) এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল, ‘আজকে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা, আজকে এক লক্ষের ওপরে মামলা এবং মারা গেছেন ২৬‘শ ওপরে, আর ৬০৩ এর ওপরে গুম হয়ে গেছে, ৮৪২ জন মারা গেছেন। এই সব তথ্য ডুকেমেন্টেড যারা রিপোর্ট করেছেন তাদের, আনডুকেমেন্টেড অনেক আছে। এটা সম্পূর্ণ তথ্য নয়, অনেক তথ্য আছে যেটা আমাদের কাছে নেই। আমরা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কা্ছে দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই, আমরা এসব ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এজন্য তাদের বাংলাদেশে ‘গুম’ ও বিচারবর্হিভৃত হত্যা ঘটনাবলীর তদন্তে একটি জুডিশিয়াল ইনকুয়ারী কমিশন গঠন করা উচিত।’

২০০৯ সাল থেকে ‘গুম’ হওয়ার ঘটনাসমূহ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্দেশ্যে সংবাদ ব্রিফিং এবং এর খসড়া জাতীয় সংঘের কাছে প্রেরণের কথাও উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংবাদ সম্মেলন করে ব্রিফিং করেছি। আমাদের দলীয় প্রধান এর খসড়া জাতিসংঘকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক কোনো অ্যাকশন এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজকে এক কঠিন সময় পার করছি। এই সময় আমাদেরকে রক্ষা করবার সময়, এই সময় আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করবার সময়. এই সময় আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার সময়, আমাদের রক্তের বিনিময় স্বাধীনতাকে রক্ষা করবার সময়। বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণভাবে একটি গণতন্ত্রহীন, ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র একটা দেশে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। নিজেদের মধ্যে ছোট-খাটো বিভেদ ভুলে দিয়ে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।’

তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে প্রফেসর শাহিদুজ্জামান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় তুলে ধরেছেন। এটা ভালোভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। এই ঘটনাগুলোর সাথে বাইরের কোনও দেশ জড়িত কিনা এবং বাইরের কোনও দেশ আমাদের দেশের কোনো নাগরিককে সে যে দলেরই হোক তাদেরকে… যে খবরগুলো এসছে সেই খবরগুলো যদি সত্য হয় যে, তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ চিত্র। তাই যদি হয়ে থাকে এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সবই বিপন্ন। আমরা জানি যে, এদেশের মানুষ তারা লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছে, তারা লড়াই করে গণতন্ত্র এনেছে এবং লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা রক্ষা করবে।’

দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও ত্যাগের কথাও তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এদেশের মানুষ আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে প্রতীক হিসেবে দেখে। এখনো হাজার হাজার মহিলা তার মুক্তির জন্যে, তার সুস্বাস্থ্যের জন্য রোজা রাখে, দোয়া করে। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ উঠে দাঁড়াবে, তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে আনবে, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে, হারিয়ে যাওয়া অধিকারগুলোকে তারা ফিরিয়ে আনবে।’

তিনি বলেন, ‘যে সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, যে সরকার অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো ব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে ব্যবহার নির্বাচনের আগের রাতে ক্ষমতা দখল করে নিয়ে, পার্লামেন্ট দখল করে নিয়েছে সেই সরকারের জনগনের ওপর কোনো দায়িত্ববোধ থাকতে পারে না, তাদের কোনো দায়িত্বশীলতা নেই। সেজন্য আজকে কোনো ঘটনার তদন্ত হয় না।’

‘যতক্ষণ পর্যন্ত না পত্র-পত্রিকাগুলো সামনে নিয়ে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে না। দুর্ভাগ্য আমাদের যে, মেজর সিনহা যখন তাকে নির্মমভাবে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অন দ্যা স্পট গুলি করা হলো, এক্সট্টা জুডিশিয়াল কিলিং করা হলো তখনো অনেকেই কথা বলেছেন। তার আগে যে রাজনৈতিক কারণে শুধু নয়, সম্পূর্ণ অন্য কোনো কারণ নেই, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, কেউ কখনো কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সাথে নাই, তাদেরকে তুলে নিয়ে গিয়ে যখন খুন করে ফেলা হয়েছে অথবা হত্যা করা হয়েছে তখন কিন্তু আমাদের দুঃখজনকভাবে মিডিয়া সেভাবে সোচ্চার হয়নি।’

ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবর্হিভুত হত্যা ও নিপীড়ন-নির্যাতন সম্বলিত মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদের সঞ্চালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান, ১৯৭৪ সালে গুম হওয়া ন্যাপ নেতা আবু বকর জাফর উদ-দৌলা দিপুর বোন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের স্ত্রী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ২০১৭ সালে গুম বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, ২০১৩ সালে গুম হওয়া ঢাকার ৩৮ নং ওয়ার্ডের নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম ও গুম হওয়া লাকসাম পৌরসভার সভাপতি পারভেজ কবির হীরুর স্ত্রী শাহনাজ আখতার বক্তব্য রাখেন।

এই ভার্চুয়াল ওয়েবনিয়ারে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের কুটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, অনিদ্র্য ইসলাম অমিত, তাবিদ আউয়াল, জেবা আহমেদ, মীর হেলাল, ফারজানা শারমিন, জাহিদুল আলম হিটো, জুয়েল মন্ডল, ইয়াসীর খান চৌধুরী প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ