মহাসচিব পরিবর্তনে জাপায় চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া


জাগো প্রহরী : জাতীয় পার্টির পুর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের আগেই মহাসচিবকে সরিয়ে দিলেন জিএম কাদের। এতো কম সময়ে মহাসচিব পরিবর্তনের ঘটনায় জাতীয় পার্টির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বিরোধী গ্রুপের লোকজন খুবই খুশি। তবে বিকল্প হিসেবে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে পছন্দ করাটাও সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন না তারা। আর রাঙ্গা পন্থীরা স্বাভাবিক ভাবেই নাখোশ। অন্যদিকে উদারপন্থীরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে এভাবে হঠাৎ করে মহাসচিব পরিবর্তন মোটেই পার্টির জন্য সুখকর হয়নি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন তখন সিদ্ধান্ত নিতেন, উদারপন্থীরা আশা করেছিলেন জিএম কাদের পার্টির নেতৃত্বে আসায় এখন এই ধারা বিলুপ্তি হবে। কিন্তু জিএম কাদেরকে তারা এরশাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখছেন। কারণ বিগত সপ্তাহেও মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে টানা কর্মসূচি পালন করে হঠাৎ করে তাকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২৮ ডিসেম্বর। সেই কাউন্সিলে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে ঘোষণা আসে। এরপর দফায় দফায় বিভিন্ন পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত এসব তালিকা আবার রদবদল করেও প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ পুর্ণাঙ্গ কমিটির এখনো বেশ কিছু পদ শূন্য রয়ে গেছে। কাউন্সিলের কিছুদিন পরেই করোনার কারণে স্থবির হয়ে যায় রাজনীতি। ঠিক তেমন সময়ে মহাসচিবকে সরিয়ে দিতে দেওয়ার ঘটনায় নানান আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আসছে একেক জনের একের রকম বিশ্লেষণ।

কেউ মনে করছেন চেয়ারম্যানের সঙ্গে মহাসচিবের অনেকদিন ধরেই মতের মিল হচ্ছিল না। পার্টির কোনো কিছুতেই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতেন না মহাসচিব। আবার কেউ কেউ মনে করছেন একটি বিশেষ মহলকে খুশি করতে জিএম কাদের মহাসচিবকে সরিয়ে দিয়েছেন। আরেক পক্ষ মনে করেন রংপুরে জাতীয় পার্টির দু-তিনটি ধারা বিদ্যমান। এর মধ্যে রসিক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা হচ্ছেন জিএম কাদেরের আস্থাভাজন। এই গ্রুপটিও রাঙ্গার উপর নাখোশ। সম্প্রতি জাপায় ফেরা ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ারের সঙ্গে রাঙ্গা দা-কুমড়া সম্পর্ক।

কারণ যাই হোক খুশি-নাখোশ দু’ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে দলটিতে। তবে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে বিকল্প এবং যোগ্য বলে মানতে চাইছেন না অনেকেই। তারা মনে করছেন এর আগে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মহাসচিব ছিলেন। তখন তার সাংগঠনিক দক্ষতা জানা আছে। একমাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে দিলে পার্টি চাঙ্গা হতো। এখন যা হয়েছে এতে পার্টির খুব একটা লাভ হবে না। যে আর সেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শীর্ষনেতা জানিয়েছেন, জিএম কাদেরের জন্য এই নজীর সুখকর হলো না। নেতাকর্মীরা তার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। অনেকে ভেবেছিলেন জিএম কাদের ভেবেচিন্তে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যা তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে জানান দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, আমি হঠাৎ করে কাউকে নেতা বানানো বা, কাউকে সরিয়ে দেওয়া পছন্দ করিনা। এতে পার্টির ক্ষতি হয়। অতীতে যা হয়েছে হয়েছে, এখন আর পুনরাবৃত্তি হবে না।

বিদায়ী মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমি কিছুই জানি না। কেনো তিনি আমাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দিলেন।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য একাধিক মিডিয়াকর্মী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে হঠাৎ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে মহাসচিব পদে আনা হয় রাঙ্গাকে। তৎকালীন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এই আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিলে পুনরায় মহাসচিব নির্বাচিত হয় মোটর মালিক সমিতির নেতা রাঙ্গা।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য