কনস্যুলেট সেবা নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের বিড়ম্বনা বাড়ছে


জাগো প্রহরী : করোনা মহামারিতেও শ্রমবাজারের সর্বোচ্চ দেশ সৌদি আরবে কনস্যুলেট সেবা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের বিড়ম্বনা দিন দিন বাড়ছে। সৌদি আরব অনেক বড় দেশ বিধায় দূর-দূরান্তের প্রবাসীদের কাছে সখ্হজে পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য এটুআই প্রকল্পের আওতায় রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ ইডিসি নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের অফিসের অদূরে শিগগিরই পাসপোর্ট সেবা দিতে ইডিসি কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এতে করোনা মহামারির দুর্দিনে অসহায় প্রবাসী কর্মীদের পাসপোর্ট হাতে পেতে অতিরিক্ত ৪০ রিয়াল এবং গাড়ি ভাড়া গুনতে হবে।

জেদ্দা থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ ফজলুল কবীর ভিকু ও মাহামুদুল হাসান শামীম বলেন, জেদ্দার এই নতুন ইডিসি সেবাকেন্দ্রের দায়িত্ব এমন কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে যারা ইতোপূর্বে প্রথম এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যুর সময় আইরিশ কোম্পানির সহযোগি এজেন্সি হিসেবে কাজ করেছে। এরাই হাজার হাজার রোহিঙ্গার হতে লাখ লাখ রিয়ালের বিনিময়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তুলে দিয়েছিল। ইস্যুয়েন্স ব্যতিরেকে কয়েক হাজার পাসপোর্ট প্রবাসীদের মধ্যে বিলি করেছে। এই পাসপোর্টধারীরা এখন তাদের পাসপোর্টগুলো রিইস্যু করতে পারছে না। এ ধরনের কলঙ্কজনক অতীত ইতিহাস থাকার পরেও কি কারণে রাষ্ট্রদূত তড়িঘড়ি একই কোম্পানির হাতেই পাসপোর্টের কাজ তুলে দিয়েছেন তা বোধগম্য নয়।

প্রবাসীদের অভিযোগ আসলে ২০১৫ সালে তাদের দেয়া রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টগুলো পুনরায় রিইস্যুর জন্যই আবার ভিন্ননামে এই প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করা হয়েছে। জেদ্দাস্থ কনসাল জেনারেল মো. ফয়সল আহমেদ পাসপোর্ট রিইস্যু সেবা বন্ধ করে দিয়ে গরিব প্রবাসীদের অতিরিক্ত টাকা সার্ভিস চার্জসহ ইডিসির মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে নোটিশ জারি করেছেন।

গত ৬ জুলাই জেদ্দাস্থ আওয়ামী লীগের দশ সহযোগি সংগঠন নিয়ে গঠিত মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক মাহমুদ হাসান শামীমের নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-এর পৃষ্ঠপোষক নিয়ে গঠিত অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে ইডিসি সেবাকেন্দ্রের দায়িত্ব দেয়ার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে ইডিসি কেন্দ্র সাময়িক স্থগিত এবং তদন্ত করে স্বাধীনতাবিরোধী অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কাছে দেয়া দায়িত্ব বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামান করা হয়।

রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ উল্লেখিত সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ স্মারক নং : বিইআর/এএমবি-১/২০২০ (১৬৭) জারি করেছেন। ঐ নোটিশে স্বাধীনতাবিরোধী অসাধু ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে অভিযোগের তথ্য প্রমাণাদি কনসাল জেনারেলের মাধ্যমে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। রাষ্ট্রদূত সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত চিঠি দেয়ায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজক আওয়ামী লীগ নেতারা তার বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে গত বুধবার রিয়াদ থেকে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ গণমাধ্যমকে বলেন, জেদ্দায় ইডিসি সেবাকেন্দ্রের নিয়োগ আমি দেইনি; ঢাকা থেকে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, জেদ্দায় আওয়ামী লীগের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে করে ইডিসি সেবাকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জামাত শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তুলছেন তার প্রমাণ তারা দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগ নেতারা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে ইডিসির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে না। ইডিসির কর্মকর্তারা জামাত শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিতে পারলে সরকার উক্ত ইডিসির চুক্তি বাতিল করবে বলেও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য