যেভাবে মসজিদে হারাম পর্যন্ত নেয়া হবে কাবার গিলাফ

ছবি: আল আরাবিয়া

জাগো প্রহরী : হারামাইন শারিফাইন প্রশাসনের দায়িত্বশীল এজেন্সি কাবা শরিফের গিলাফ বাদশাহ আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স থেকে মসজিদে হারামে স্থানান্তরিত করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অপেক্ষা এখন নতুন গিলাফটি কাবার গায়ে চড়ানোর।

রীতি অনুযায়ী ৯ জিলহজ রাতে (৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার) গিলাফ পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হারামাইন শারিফাইন প্রশাসনের বরাতে আল আরাবিয়া উর্দু জানিয়েছে, পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি সংহত বহরের মাধ্যমে মসজিদে হারাম পর্যন্ত পৌঁছানো হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, হারামাইন শারিফাইনের পরিচালক ফাহাদ আল-আবদালি এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাবার গিলাফ বড় একটি ট্রাকে করে মসজিদে হারামে নিয়ে যাওয়া হবে এবং গিলাফ চড়ানোর সময় ব্যবহৃত আনুষঙ্গিক আসবাবপত্র নেয়া হবে আরও দুটি উন্নত মানের দুটি পিকাপে করে।

তিনি বলেন, গিলাফ পরিবর্তনের কাজে নিয়োজিত দক্ষ কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতা ও যত্নের সঙ্গে নতুন গিলাফ ট্রাক থেকে নামিয়ে কাবার গায়ে চড়াবেন।

প্রসঙ্গত, মক্কার নিকটবর্তী উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমিক সারা বছর কাবার গিলাফ তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকেন।

গিলাফটি খুব টেকসই ও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়। যেন রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয় এবং এতে খাঁটি রেশম ব্যবহার করা হয়।

পবিত্র কাবার কালো গিলাফকে কিসওয়া বলা হয়। গিলাফের বাইরের কালো কাপড়ে স্বর্ণমণ্ডিত রেশমি সুতা দিয়ে দক্ষ কারিগর দিয়ে ক্যালিওগ্রাফি করা হয়। একটি গিলাফ তৈরি করতে ১২০ কেজি সোনার সুতা, ৭০০ কেজি রেশম সুতা ও ২৫ কেজি রুপার সুতা লাগে। গিলাফটির দৈর্ঘ্য ১৪ মিটার এবং প্রস্থ ৪৪ মিটার।

পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল।

এ বছর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বায়তুল্লাহর চারপাশে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। তাওয়াফকারীরা এই ব্যারিকেড অতিক্রম করতে পারবেন না।

সৌদি আরবের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দিক-নির্দেশনায় এবার হজে কাবার গিলাফ, কিংবা কাবা স্পর্শ করা, সেই সঙ্গে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে শুধু সৌদি আরবে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের অধিবাসী ও দেশটির নাগরিকদের সমন্বয়ে দশ হাজার মানুষ এবার হজ পালন করবেন।

প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ হজ পালন করেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার মাত্র দশ হাজার মানুষ হজ পালন করবেন। তার পরও প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের কমতি নেই সৌদি কর্তৃপক্ষের।

ইতিমধ্যে মক্কার জমজম টাওয়ার, মিনা টাওয়ার, আরাফার ময়দান ও মুজদালিফা প্রস্তুত করা হয়েছে হাজীদের জন্য।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য