ঈদে যুদ্ধবিরতিতে একমত তালেবান ও আফগান সরকার


জাগো প্রহরী : আফগানিস্তানে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে তালেবান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

স্থবির হয়ে পড়া বন্দিবিনিময় আলোচনা আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে-আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির এমন ইঙ্গিতের পর মঙ্গলবার তালেবান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।

ঘানি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র শিগগিরই ৫ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তালেবানের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতা করতে চাই আমরা।’ ফেব্রুয়ারিতে তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয় আফগান সরকার।

এএফপিকে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকি বলেন, কাবুল সতকর্তার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করবে। কারণ তালেবান এমন ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে কখনোই রক্ষা করেনি।’

‘আফগানিস্তানের মানুষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি তালেবান-সরকারের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চায়।’ বলেন সাদিক। ঈদের ছুটির পর সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য প্রস্তুত-তালেবানের এমন ঘোষণার পর কাবুল বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে, যোদ্ধাদের ঈদের তিনদিন শত্রুদের বিরুদ্ধে সবধরনের হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আতঙ্ক ছাড়া সাধারণ মানুষ যাতে ঈদ উপভোগ করতে পারে সেই লক্ষ্যে এ নির্দেশনা। এসময় শত্রুরা কোনো হামলা চালালে তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আফগানিস্তানে ২০০১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে তিনবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়া হলো। এর আগে ২০১৮ সালে জুনে এবং চলতি বছর রমজান এবং ঈদুল ফিতরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

নিরাপত্তা রক্ষায় তালেবানের দেয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ২৯ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১০ মার্চ আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা শুরুর কথা ছিল। আটক তালেবান সদস্যদের মুক্তি দেয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বন্দিমুক্তির বিষয়ে মতানৈক্য তৈরি হওয়ায় সে আলোচনা আর শুরু হয়নি। সে সময় সরকার অভিযোগ করে, মুক্তি পাওয়া তালেবান সদস্যরা পুনরায় যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে।

আফগান প্রেসিডেন্ট জানান, চুক্তির পর তালেবানের হামলায় সাড়ে তিন হাজার আফগান সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। ৭শ’ ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। আহত হয় ১ হাজার ৬ শ’ ৯ জন।

অধিকাংশ হতাহতের জন্য তালেবানকে দায়ী করে আফগানিস্তানের জাতিসংঘ মিশন। বাকি হামলার জন্য সরকারী বাহিনীকে দায়ী করা হয়।তালেবানের হামলার জবাবে সম্প্রতি বিমান হামলা জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানান। বলেন, অব্যাহত মার্কিন হামলা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ নিরসনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য