সংবাদ সম্মেলনে আলেমদের দাবি, কুরবানীর চামড়ার মূল্য নূন্যতম ২০০০ নির্ধারণ করতে হবে


জাগো প্রহরী : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর ও ইত্তেফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, বিভিন্ন দেশে চামড়ার মূল্য আগের মত থাকলেও বিগত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশে চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার দাম কমিয়ে চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের দারাপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে অথচ চামড়ার তৈরিকৃত সকল জিনিস পত্রের দাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

২০০০/৩০০০ টাকার চামড়া গত কুরবানীতে ২০০/৩০০ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে। যার কারণে গত কুরবানীতে অনেকেই চামড়া  বিক্রি না করে ফেলে দেয়া এবং মাটির নিচে পুতে রাখার দৃশ্য জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া এতিম ও গরিবের হক। চামড়ার দাম কমানোর মাধ্যমে এতিম-গরিবের অধিকার নষ্ট করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কওমী মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো জনগণের দানে পরিচালিত। কুরবানির পশুর চামড়া মাদরাসার আয়ের বড় উৎস। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ ঈদের আনন্দ ত্যাগ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করে মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিং সচল রেখেছেন। চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া মূল্য কমিয়ে গরিবের হক্ব নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। তিনি এবারের কুরবানীর চামড়ার মূল্য নূন্যতম ২০০০/= টাকা নির্ধারন করে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

আজ মঙ্গলবার চামড়ার ন্যায্যমূল্যের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইত্তেফাকুল মুসলিমীনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে আমীরের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ইত্তেফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া। 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ভাইস চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আজীজুর রহমান হেলাল, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ওযায়ের আমীন, মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, মুফতি যুবায়ের গণী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, বাংলাদেশ ওয়ায়েজিন পরিষদ সভাপতি মুফতি বক্তা ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, সবার খবর সম্পাদক মাওলানা আবদুল গাফফার, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ইত্তেফাকের প্রচার সম্পাদক মুফতি আব্দুল্লাহ ইদরীস প্রমুখ। 

ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ না হলে ইত্তেফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ বিশিষ্ট আলেম-উলামা, দ্বীনদার বুদ্ধিজীবিদের সঙ্গে মতবিনিময়, মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপির কর্মসূচি পালন  করবে।

সংবাদ সম্মেলনে কওমী মাদরাসার হিফজুল কুরআন বিভাগ খুলে দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, আমরা আশা করি এভাবে অচিরেই কুরআন-হাদিসের শিক্ষাকেন্দ্র সকল কওমী মাদরাসা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিবেন।  মাদরাসা বন্ধ থাকলে কুরবানীদাতারা চরম দূর্ভোগে পরবেন। অন্য দিকে মাদরাসাগুলোও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।  তাই দেশের জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে সকল কওমী মাদরাসা খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি তারা আহ্বান জানান।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ