অনুদান বিতরণের কার্যক্রম শুরু বেফাকের


জাগো প্রহরী : দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে কওমি মাদরাসার শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অনুদান বিতরণ কার্যক্রম। কওমি শিক্ষকদেরকে দেয়া এই অনুদান আজ মঙ্গলবার থেকে বিতরণ করা শুরু হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

গত এপ্রিলে সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশের কওমি মাদরাসার জন্য ঘোষণা করা হয় আর্থিক প্রণোদনা। কিন্তু বেফাক সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ২৬ এপ্রিল অসুবিধাগ্রস্ত শিক্ষকদের সহায়তা করতে নিজেরাই একটি কল্যান তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয় বেফাক। ঈদুল ফিতরের আগে শিক্ষকদের হাতে এই অনুদান তুলে দেয়ার কথা থাকলেও সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেরী হয়ে গেছে অনেক। এসে পড়েছে ঈদুল আজহা।

অনুদান বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মাওলানা যুবায়ের আহমদ বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে বেফাকের অনুদান বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। অনুদান বিতরণের জন্য জেলাভিত্তিক স্পট করা হয়েছে। মাদরাসার মুহতামিমগণ তাদের জেলার স্পটে যাবেন। সেখানে তাদের হাতে চেক তুলে দেয়া হবে। প্রথমে আমরা রংপুর, রাজশাহি, খুলনা এবং বরিশালে কার্যক্রম শুরু করবো।’

প্রতিটি মাদরাসায় কত টাকা করে অনুদান দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে বেফাকের মহাপরিচালক বলেন, ‘দাওরায়ে হাদিস পুরুষ মাদরাসায় ১৮ হাজার টাকা, দাওরায়ে হাদিস মহিলা মাদরাসায় ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। মাদরাসা প্রতি সর্বোচ্চ অনুদান ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন অনুদান ৬ হাজার টাকা। মোট ৫ কোটি টাকা অনুদান দিব আমরা।’

বেফাক থেকে অনুদান প্রত্যাশীদের ‘অনুদান ফরম (শিক্ষক)’ ফরম পূরণ করতে হয়েছে। ফরমের নিচে লিখে দেয়া হয়েছে, ‘মাদরাসা কর্তৃপক্ষ চাইলে বেফাক প্রদত্ত অনুদানকে বেতনের সাথে সমন্বয় করতে পারবে।’ অনুদান ফরমের এই ফুটনোট থেকে প্রশ্ন জাগে—বেফাক মাদরাসাকে অনুদান দিচ্ছে, নাকি শিক্ষকদের? ফরম থেকে বুঝা যায়, শিক্ষকদের অনুদান দেয়া হচ্ছে। ‘বেতনের সাথে সমন্বয়’ ফুটনোট থেকে বুঝা যায়, অনুদান দেয়া হচ্ছে মাদরাসাকে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বেফাক এবং হাইয়াতুল উলইয়ার উচ্চ কমিটির সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘অনুদানটাকে সমন্বয় করা হয়েছে। সব মাদরাসার আর্থিক সামর্থ্য এক না। কোনো কোনো মাদরাসা পরিস্থিতি ঠিক হলেও বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারবে না। তারা চাইলে বেফাকের অনুদানটাকে তাদের বেতন হিসেবে শিক্ষককে দিতে পারেন। আবার কোনো কোনো মাদরাসা বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারবে। তারা চাইলে বেতন হিসেবে না দিয়ে শিক্ষকদেরকে অনুদান হিসেবেই দিতে পারেন। দুটোর সমন্বয় করার জন্যই ফুটনোট যুক্ত করা হয়েছে।’


জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ