অনিয়মের অভিযোগে বেফাকের সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ৩

বহিস্কৃত সর্ববামে মুফতি ত্বহা,মাঝে মাও. আব্দুল গণী ও ডানে মুফতি আবু ইউসুফ ৷

জাগো প্রহরী : নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফসহ তিনজনকে স্থায়ীভাবে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাক।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাওলানা আবু ইউসুফ ছাড়াও বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা ত্বহা ও পরীক্ষা বিভাগের সঙ্গে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা আবদুল গণীকে বেফাকের সকল দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাক। তবে বেফাকের মহাসচিবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জাগো প্রহরীকে জানান বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ।

বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক  বলেন, বেফাকের শৃঙ্খলাবিরোধী নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এছাড়া মাওলানা আবু ইউসুফও অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে, তাই তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নানা অনিয়ম ও বেফাকের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা ত্বহা ও  পরীক্ষা বিভাগের সঙ্গে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণীকে এই মুহূর্ত থেকে বেফাকের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে বেফাকের মহাসচিবকে নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের যেই অভিযোগের কথা ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আজকে আপাতত এই তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,পর্যায়ক্রমে তদন্ত করে আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্তের পরেই তা জানানো হবে বললেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

উল্লেখ্য, কিছু ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে বেফাক নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছে তোলপাড়। কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধা তালিকা নিয়ে সিরিয়াল জালিয়াতি, পরীক্ষার মারকাজ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, স্বজন-প্রীতি, মুরব্বি আলেমদের নামে তুচ্ছ-তাচ্ছিল এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তিনি বরখাস্ত হতে পারেন এমনটা আগেই জানা গিয়েছিল।

সাম্প্রতিক বেফাক নেতৃবৃন্দের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর মাওলানা আবু ইউসুফের অনিয়মের খবর আসতে থাকে চারিদিক থেকে। চাপের মুখে পড়ে তিনি বেফাক মহাপরিচালকের কাছে অনির্দিষ্টকালের ছুটিও চেয়েছিলেন। তবে মহাপরিচালক তা মঞ্জুর করেননি।

মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে অনেক আগ থেকেই একটি সাব কমিটি তদন্ত করছে। অবশ্য বেফাকের সব অনিয়মের বিরুদ্ধেই কাজ করছে ১০ সদস্যের এই কমিটি। তদন্ত কমিটিতে আছেন-মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা মনিরুজ্জামান।

বেফাকের আজকের বৈঠকে খাস কমিটির সদস্যদের মধ্যে থেকে উপস্থিত ছিলেন বেফাকের সহসভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আবদুল হক ময়মনসিংহ, মাওলানা আবদুল হামিদ মধুপুর পীর সাহেব, মাওলানা সাজিদুর রহমান দারুল আরকাম মাদরাসা, মাওলানা ছফিউল্লাহ পীরজঙ্গী মাদরাসা, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া। মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ও মাওলানা নুরুল আমিন এবং অর্থ সম্পাদক মাওলানা মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এসব ফোনালাপসহ এ পর্যন্ত বেফাকে হওয়া সব অনিয়মের বিচার দাবি করেছেন কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ