লকডাউন ওয়ারীতে এক সপ্তাহে নতুন আক্রান্ত ৫১ জন


জাগো প্রহরী : করোনা সংক্রমণ রোধে রাজধানীর ওয়ারীতে ২১ দিনের লকডাউন দেয়া হলেও কমছে না আক্রান্তের সংখ্যা। অবরুদ্ধ পরিস্থিতির প্রথম ৭ দিনে (১০ জুলাই পর্যন্ত) সেখানে নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। লকডাউনের আগে এ এলাকায় আক্রান্ত ছিলেন ৪৬ জন।

স্থানীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো জানান, ৪ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত নমুনা দিয়েছেন ১২৪ জন। এর মধ্যে ৫১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ। ১১ জুলাই ১৪ জন এবং ১২ জুলাই আরও কয়েকজন নমুনা দিয়েছেন। তাদের ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।

কাউন্সিলর আরও বলেন, সরকার জেনেবুঝেই লকডাউন দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সঠিক। হয়তো কিছু মানুষ মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন। তারপরও এলাকাবাসী সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, এটাই চাওয়া। শুরুতে মানুষ একটু ঝামেলা করলেও এখন তারা লকডাউন মেনে নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ারীর লকডাউন এলাকা থেকে এখনও মানুষের বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ওই এলাকায় বসবাসরত ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা। তারা নানা উপায়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। কখনও সহযোগিতা নিচ্ছেন এলাকার বড় ভাইদের। আবার কখনও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তবে ওয়ারী থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হট কেক গলিতে কঠোর অবস্থানে আছেন স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরা।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই গেট দিয়ে ৭৪ জন এলাকাবাসী বের হয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ডাক্তার ও রোগী। ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার যারা জটলা করেছেন বের হওয়ার জন্য, তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আর বারবারই মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, কেউ যেন আউট গেটে ভিড় না করেন।

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শেফালী বলেন, আমার শাখায় ৫৩ জন কর্মী। তার মধ্যে ২০ জন নেই। প্রতিদিনই ব্যাংক থেকে তাড়া দেয় যাওয়ার জন্য। কোনোদিন বের হতে পারি, আবার কোনোদিন পারি না।

ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, কতদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যায়? সামনে ঈদ আছে। বর্তমানে যে অবস্থা এখন তো আর আগের মতো ব্যবসা নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে খাব কী করে?

লকডাউন শুরু থেকেই ওয়ারী এলাকায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক তিন শিফটে ভাগ হয়ে কাজ করছেন। এলাকাবাসীর প্রয়োজনে সাড়া দিচ্ছেন তারা। 

স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তারা সব সময়ই আমাদের সহযোগিতা করছেন। কিন্তু যত সমস্যা রয়েছে বাইরে বের হওয়া নিয়ে।

ব্যাংক কর্মকর্তা আফরোজা হাসান বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা খুব দ্রুত রেসপন্স করেন। যখন যেভাবে চেয়েছি তাদের সাহায্য পেয়েছি। তাদের নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আক্ষেপ বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

স্বেচ্ছাসেবক অভি বলেন, আমরা এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারা যখন যা এনে দিতে বলছেন হাসিমুখে তাই এনে দিচ্ছি। এমনও হয়েছে, একজনকে এক রুটি চারবার এনে দিতে হয়েছে। তবুও চাই আমার এলাকা ঝুঁকিমুক্ত হোক।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ