হরিলুটের বাজেটে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি : মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস


জাগো প্রহরী : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি,সাবেক মন্ত্রী মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস আজ বৃহস্পতিবার ( ১১ জুন ) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সরকার ঘোষিত বাজেট প্রসঙ্গে বলেছেন,অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলতে হচ্ছে করোনাকালীন সঙ্কটেও সরকার ঘোষিত বাজেটে গণমানুষের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। হরিলুটের এ বাজেট বাস্তবায়ন আদৌসম্ভবপর নয়। এবাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বদলে সরকারে লোক দেখানোর পুরনো মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

করোনা ভাইরাস মহামারিতে বর্তমানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অস্বাভাবিক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলে তাদের ব্যয় এখন খুবই সীমিত। তার ফলশ্রুতিতে সরকারের রাজস্ব হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস করার দাবি করা হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। 

 সীমাহীন লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখন খুবই খারাপ, এর মধ্যে সরকারকে এত বিপুল পরিমান লোন দেয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। করোনাকালীন জরুরি অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ যেন সঠিক খাতে, সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় তার দিকে নজর রাখতে হবে। তা না হলে এই বরাদ্দ দুর্নীতিবাজ আর লুটেরাদের হাতে চলে যাবে। পাশাপাশি চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুনের স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কমানো, আমদানি করা চিনি ও রসুনের অগ্রিম আয়কর কমানো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য হ্রাস পাবে। ফলে এর সুফল ভোগ করতে পারবে জনগণ। 

শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পকে প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে কতিপয় পণ্য আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে পোশাক শিল্পগুলো উপর চাপ কমলেও মালিকরা শ্রমিক ছাটাইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে বলে মনে হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে সরকারের অতি বিলাসী বরাদ্দ থেকে প্রতিয়মান হয় সরকার সম্পূর্ণ বাজেটকে নিছক একটি কাগুজে ব্যাগের
 আকৃতি দিয়েছে।

বরাবরের মতো নতুন অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। এর মাধ্যমে আসলে লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের স্বার্থই বার বার রক্ষা করা হচ্ছে। ফলে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হয়। সরকারের উচিত এই প্রস্তাব বাতিল করা। এইক সাথে সরকারের কৃষিখাতকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। কৃষককে বিনা সূদে ঋন দেয়া উচিত। কারণ করোনা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে অবশ্যই গ্রামীণ অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে স্বক্ষম হবে। 
 তাই অতি বিলাসি ও দেশের স্বার্থ বিনাশী এ বাজেটকে পুনঃবিবেচনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ