ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের সাজা দেওয়া অবৈধ


জাগো প্রহরী : ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দণ্ড দেওয়া ও আটক রাখা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ৩১ পৃষ্ঠার এই রায়ে ১২১ শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দেওয়া সাজা বাতিল করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুকে সাজা দেওয়া সংবিধান পরিপন্থী এবং শিশু আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের বিচার শুধু শিশু আদালতেই হতে হবে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মাহমুদুল হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই রায় বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায়ের তথ্য জানান মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।
হাইকোর্ট গত ১১ মার্চ প্রকাশ্য আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। যার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হলো বুধবার। যদিও এরই মধ্যে হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ১৬ মার্চ ওই রায় স্থগিত করা হয়। এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপিল আবেদন দাখিল করবে।

হাইকোর্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শ্যামলী ও ফার্মগেট এলাকায় সাজা দেওয়া ২৩টি শিশুর উদাহরণ তুলে ধরে বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠবে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের বিচার করা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।

টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি শিশুদের নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে গত বছর ৩১ অক্টোবর ‘আইনে মানা, তবুও ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই শিশুদের বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই সুয়োমটো (স্বতঃপ্রণোদিত) আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দিদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ বছরের নিচে তাদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যে শিশুদের বয়স ১৩ বছর থেকে ১৮ বছর তাদের ছয় মাসের জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

জামিনপ্রাপ্তদের সংশ্লিষ্ট জেলা শিশু আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে জামিননামা দাখিল করতে বলা হয়। এই আদেশের পর ওই ১২১ শিশুর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ১২১ শিশুকে দেওয়া দণ্ড এমনভাবে বাতিল হবে, যেন তাদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো মামলা হয়নি, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বা তাদের কোনো দণ্ড দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এই শিশুদের জীবনে দণ্ডের কোনো প্রভাব পড়বে না। আইনের চোখে তারা নিষ্পাপ।

রায়ে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার বিচার হবে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন কমপক্ষে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারক। কিন্তু মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হলেন নির্বাহী হাকিম বা মহানগর হাকিম। সুতরাং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কোনোভাবেই বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এটা করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

 জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ