লকডাউন তুলে সব স্বাভাবিক করে দিন


হাফিজুল হক ৷৷

ছবিতে আমেরিকার পার্লামেন্ট হাউজের সামনে সম্প্রতি জর্জ ফ্লয়েড নামক এক কালো বর্ণের ব্যাক্তিকে সাদা বর্ণের পুলিশ কর্তৃৃক গলা চেপে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলার দৃৃশ্য দেখা যাচ্ছে ৷ শুধু তাই নয়,আমেরিকার প্রায় চল্লিশটি শহরে গত এক সপ্তাহ যাবত লকডাউন উপেক্ষা করে প্রতিবাদী কর্মসূচি প্রচণ্ড আকারে হচ্ছে ৷ যাদের বেশি ঘরে থাকার কথা ছিল, তারা আজ প্রতিবাদী হয়ে রাস্তায়। করোনা, লকডাউন এসবের কোনো তোয়াক্কা নেই তাদের মাঝে। বাস্তবতাও তাই হওয়া উচিত।

করোনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবন বন্ধ করে দেওয়ার কোন মানে হয় না। লকডাউনে উপকারের চেয়ে ক্ষতিও বেশ ৷ গত তিন মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালত বেশ করুন ৷ সব সেক্টর আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে৷ বিদেশের অনেক দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে এবং আরও দিচ্ছে ৷

বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে,করোনা যেহেতু আমাদের ছেড়ে যাবে না ৷ অন্যান্য রোগের মতো আজীবন থাকবে ৷ সেহেতু আজীবন কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ? একটি রাষ্ট্রে শিক্ষার গুরুত্ব অনেক ৷ শিক্ষিত মানুষ ছাড়া সমাজের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব ৷

আবার অনেকে বলবেন,জীবন না জীবিকা আগে ? তাদের জন্য বলি,যার বাসা-ব্যাংকে বস্তা ভর্তি টাকা আছে,তার জন্য জীবন ৷ আর যার টাকা নেই,তার জন্য জীবিকা ৷

আর শুধু মাস্ক আর সতর্কতা কাউকে বাঁচাতে পারে না ৷ সরকার বলেছিল,ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন ৷ বাস্তবে ঘরেও কেউ নিরাপদ নয় ৷ অনেক ভিআইপি মানুষও করোনা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ৷ এর মধ্যে -

* এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

* হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ করোনায় আক্রান্ত।

* অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী করোনা শনাক্ত।

* শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদের মা, ৫ ভাই এবং ছেলে করোনায় আক্রান্ত। এদের মধ্যে বড় ভাই মোরশেদুল আলম মারা গেছেন।

* শমরিতা হাসপাতাল, সন্ধানী লাইফসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি হাজী মো. মকবুল হোসেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

* ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর স্ত্রী করোনায় ইনতেকাল করেছেন।

* শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর স্ত্রী এবং সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইনতেকাল করেছেন।

* গণস্বাস্হ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,নিজ স্ত্রী এবং ছেলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷

* সাবেক স্বাস্হ্যমন্ত্রী নাসিম সাহেবও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷

* কদিন আগে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ দরবার শরীফের পীর সাহেবও করোনায় ইনতেকাল করেন ৷

* গত ৩ জুন রাতে দেখলাম প্রধান বিচারপতিও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৷

এসব কিছু দেখে ও বিজ্ঞানীদের ভাষ্য থেকে বুঝা যায়,আমাদের এই মধ্যবিত্ত দেশে করোনাতে লকডাউন কোনো সমাধান নয়,সচেতনতাই বড় জরুরি ৷ এক্ষেত্রে অবশ্য আমরা জাতিগত অসচেতন ৷ রাস্তায় বের হলে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই  মাস্কবিহীন তথা স্বাস্হ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীন ৷ আর সচেতনতার পাশাপাশি সব সেক্টর স্বাভাবিক করে দেওয়া উচিৎ মনে করি ৷ কারণ সেপ্টেম্বরের পর যে করোনা চলে যাবে ! এর কোনো নিশ্চয়তা নেই ৷ পরিস্হিতিতে বুঝা যায় পুরো মুজিববর্ষ জুড়েই থাকবে করোনা ভাব ৷ তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষত কওমি শিক্ষা ব্যবস্হা বন্ধ রেখে ফায়দা দেখি না ৷ তবে স্বাধীনতা থাকবে যার ইচ্ছে এ বছর পড়বে নতুবা ঘরে বসে থাকবে ৷

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ