৫হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার পরও কর্মী ছাঁটাই মানবতাবিরোধী : রিজভী


জাগো প্রহরী : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণার পরও বিজিএমইএর কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় দুরভিসন্ধি থাকতে পারে।

রোববার ( ৭ জুন ) অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ‘র সভাপতি জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রণোদনার পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেয়ার পর এই ঘোষণা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শ্রমিকদের জীবন জীবিকাকে আমলে না নিয়ে ছাঁটাইয়ের কথা বলা চরম অমানবিক ও মানবতাবিরোধী। তাদের এই ঘোষণায় অন্যকোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে।

রিজভী বলেন, এমন মহাদুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তেও সরকারের দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতির চিন্তায় মগ্ন। স্বাস্থ্যখাতকে লুটপাটের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। গত বৃহস্পতিবার সরকার সমর্থক একটি জাতীয় দৈনিকে দুর্নীতির ভয়ঙ্কর চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতাগুলোতে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট, স্বাস্থ্য সরঞ্জাম, পিপিই সংকটে করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেয়া ‘করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরি সহায়তা’ প্রকল্পটির আওতায় এক লাখ সেফটি গগলস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে দেখা যায়, প্রতিটি সেফটি গগলসের দাম ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে প্রতিটি সেফটি গগলস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায়। এই প্রকল্পের আওতায় মোট এক লাখ সাত হাজার ৬০০ পিপিই কেনা হবে। যার প্রতিটির জন্য খরচ ধরা হয়েছে চার হাজার ৭০০ টাকা। পিপিই কেনায় মোট খরচ হবে ৫০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব শর্ত মেনে ওষুধ অধিদপ্তরের সব শর্ত অনুসরণ করে বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি ভালো মানের পিপিই বিক্রি হচ্ছে এক থেকে দুই হাজার টাকায়।

এই প্রকল্পের আওতায় ৭৬ হাজার ৬০০ জোড়া বুট জুতা কেনা হবে। প্রতিটি জুতা’র খরচ দেখানো হয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা। এই খাতে খরচ ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অথচ বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতিটি বুট জুতা কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়’।

শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে করোনা মোকাবিলার প্রকল্পে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনার চেয়ে সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট, সেমিনার, কনফারেন্স ও পরামর্শক খাতে তুলনামূলক বেশি খরচ হচ্ছে। এডিবি’র অর্থায়নে নেয়া প্রকল্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে এডিবি’র অর্থায়নে প্রকল্পের আওতায় অগ্রগামী যোদ্ধা চিকিৎসক ও নার্সদের ঝুঁকিভাতা হিসেবে ৩৩৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। অথচ সরকারি কর্মকর্তাদের করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে পদ অনুযায়ী প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ