জুমার দিনের ফজিলত


মুফতি রুহুল আমিন ( বাবা হুজুর ) ৷৷ 

শুক্রবার বা জুমাবার।এটি সপ্তাহের অন্যতম বিশেষ একটি দিন।এ দিনটিকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়।আরবিতে এই দিনকে  ইয়াওমুল জুমা বলা হয়।সূরাতুল জুমা নামে পবিত্র কোরআনে স্বতন্ত্র একটি সূরাও রয়েছে।জুমার দিন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত।যথাযোগ্য মর্যাদায় মুসলমানরা এ দিনটিকে পালন করে থাকেন।এদিনে জোহরের  পরিবর্তে আমরা জুমার নামাজ আদায় করি।

জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে হজরত সালমান (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, অতঃপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি লাগাবে, তারপর মসজিদে গমন করবে, দুইজন মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নিবে না,(আর এভাবে)সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা প্রদান করবেন, চুপ করে মনোযোগ সহকারে তাঁর খুতবা শুনবে।দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার যত গুনাহ হয়েছে সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

এ দিনের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,জুমার দিন ফেরেশতাগণ মসজিদে রেজিস্টার খাতা নিয়ে প্রবেশ করেন।মুসল্লিদের মধ্য থেকে যিনি সর্বাগ্রে মসজিদে প্রবেশ করেন ফেরেশতারা তার আমলনামায় আল্লাহর রাস্তায় একটি উট দান করার সওয়াব লিখে রাখেন।দুই নম্বরে যিনি প্রবেশ করেন তার জন্য আল্লাহর রাস্তায় একটি গরু দানের সওয়াব লিখে রাখেন।তিন নম্বরে যিনি প্রবেশ করেন ফেরেশতারা তার জন্য আল্লাহর রাস্তায় একটি দুম্বা দানের সওয়াব লিখে রাখেন।চার নম্বরে যিনি প্রবেশ করেন ফেরেশতারা তার জন্য আল্লাহর রাস্তায় একটি মুরগী দানের সওয়াব লিখে রাখেন।পাঁচ নম্বরে যিনি প্রবেশ করেন ফেরেশতারা তার জন্য আল্লাহর রাস্তায় একটি ডিম দানের সওয়াব লিখে রাখেন।

জুমার দিনের ফজিলতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চমৎকার বিষয়টি হলো, এই দিনে আল্লাহ  তায়ালা তার বান্দাদেরকে বিশেষ একটা সময় দান করেছেন। যে সময়ে মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে সে বান্দার দোয়া কবুল করা হয়ে থাকে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে  বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিনে এমন একটা সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাকে তা দান করবেন।

দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময়  সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী , আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিই দোয়া কবুলের সেই মহামূল্যবান সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের কাঙ্খিত সেই সময়টি হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। 

লেখক :  মুহাদ্দিস, জামেউল উলুম মাদরাসা মিরপুর-১৪,ঢাকা - ১২০৬ ৷


জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য