সেনা প্রত্যাহারের চেয়ে আফগানিস্তানে অবস্থানের ঝুঁকি অনেক বেশি



ড্যানিয়েল এল ডেভিস ৷৷

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বলেছেন যে, আফগানিস্তানে ১৯ বছর কাটানোর পর আমাদের সেনাদের এখন ঘরে ফেরার সময় হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ঠিকই বলেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কার্যকরভাবে পুলিশ বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের কথায় অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়েছেন, তবে বাস্তবতা হলো প্রেসিডেন্টের ঘোষণাটাই প্রকৃতপক্ষে সঠিক।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিরোধী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম দ্রুততার সাথে ট্রাম্পের বিরোধীতা করেছেন। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের কাছে দেয়া এক চিঠিতে গ্রাহাম কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যাতে তারা এটা নিশ্চিত করে যে, তালেবানদের সাথে কোন ধরণের চুক্তিতে গেলে সেটা আল কায়েদা এবং আইসিসকে দীর্ঘমেয়াদে পরাজিত করতে সাহায্য করবে। সিনেটর লিখেছেন যে, “কোন শর্ত ছাড়াই সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেটা আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থের জন্য হবে ভয়াবহ”।

সিনেটর এবং তার মতের সমর্থকরা আসলে আমেরিকান স্বার্থকে তালেবানদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল করে ফেলছেন। সেটা হলো তালেবানরা আমাদের পছন্দ মতো ব্যবহার না করা পর্যন্ত আমাদের সেনারা কখনও আফগানিস্তান ছাড়বে না।

আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের স্বার্থকে বিদেশী বিভিন্ন পক্ষ এবং ঘটনার সাথে মিলিয়ে ফেললে চলবে না, যাদের নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে এবং আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য যাদের কোন আগ্রহ নেই।

এমনকি সাধারণ পর্যবেক্ষকরাও যেটা বুঝতে পারবে যে, প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তানের আমাদের কৌশলগত ব্যার্থতার পর যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই তালেবানদেরকে তাদের ইচ্ছে মতো আচরণ করাতে পারবে না, তা যত বেশি সেনাই আমরা সেখানে মোতায়েন করি না কেন, আর যত দীর্ঘ সময় আমরা সেখানে থাকি না কেন।

আরও সরাসরি বললে আমাদের সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তার জন্য তালেবানদের পরাজিত করার আমাদের প্রয়োজন নেই।

তালেবানদের আশ্রয়ে থাকা আল কায়েদার কারণেই যে আমরা শুধু ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে হামলার শিকার হয়েছিলাম, এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। এই জিনিসটা বোঝা খুবই জরুরি। আফগানিস্তানের ভৌগলিক অবস্থানের সাথে হামলার সম্পর্কের বিষয়টা গৌণ বিষয় এবং আফগানিস্তানকে পুরোপুরি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি থেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদেরকে লড়াই করে যেতে হবে, এই ধারণাটাও পুরোপুরি ভুল।

আফগানিস্তানে থেকে যাওয়ার পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের যুক্তি হলো সেনা প্রত্যাহার করা হলে আমরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবো। তবে সেখানে থেকে গেলে আমরা আরও অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাবে ৷

২০০৫-০৬ ও ২০১০-১১ সালে আফগানিস্তানে দুটো কমব্যাট মোতায়েন ট্যুরে কাজ করেছি আমি। ওবামার সময়ে ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি নিয়মিত প্রত্যক্ত করেছি আমি। আমি চুড়ান্তভাবে এই কথা বলতে পারি যে, একটা ছায়া জঙ্গি গ্রুপকে পরাজিত করাটা একটা কনভেনশনাল সেনার পক্ষে কার্যত অসম্ভব। সেনা প্রত্যাহার করাটা অনেক ভালো পন্থা – এবং এটা শুধু আমার একার অভিমত নয়।

গত মাসে কনসার্নড ভেটেরান্স ফর আমেরিকা (সিভিএ) একটি জরিপ চালিয়েছে। যে সব অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের সাথে কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই বলেছেন যে, তারা আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে। সিভিএ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নেইট অ্যান্ডারসন বলেছেন যে, এটা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, যে সেনারা প্রত্যক্তভাবে মাঠে লড়াই করেছেন, তারা আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার চাইবে।

অ্যাণ্ডারসন বলেছেন যে, এই জরিপের ফল থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হবেন এবং আরও রক্ষণাত্মক পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করবেন তিনি, যেটা আমেরিকান স্বার্থকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করবে।

সূত্র : দ্য হিল

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ