গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের ইহুদি বসতি নির্মাণ শুরু


জাগো প্রহরী : ইসরাইলের বসতি বিষয়ক মন্ত্রী জিপি হোটোভ্যালি গত রোববার বলেছেন, ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় সরকার অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পটিকে হিব্রু ভাষায় ‘রামাত ট্রাম্প’ অর্থাৎ ‘ট্রাম্প মালভূমি’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

জিপি হোটোভ্যালি ফেসবুকে লিখেছেন, তার মন্ত্রণালয় রামাত ট্রাম্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে। অবৈধ এ আবাসন প্রকল্পে ৩০০ পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ইহুদি জনবসতিটি বর্তমানে ব্রুচিম নামে পরিচিত এবং এটি ৩০ বছরেরও বেশি পুরনো। এর জনসংখ্যা মাত্র ১০ জন।

১৯৬৭ সালের জুনে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরীয় ভূখণ্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। সেখান থেকে সিরিয়ান আরব বাসিন্দাদের বেশির ভাগই পালিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে এটি পুনর্দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সিরিয়া। ১৯৮১ সালের ৪ ডিসেম্বর একতরফাভাবে ওই এলাকাকে নিজেদের অংশ ঘোষণা করে ইসরাইল। তবে এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের গ্রহণ করা এক প্রস্তাবে ইসরাইলকে পূর্ব জেরুসালেম ও গোলান মালভূমিসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ বন্ধ করতে বলা হয়।

তবে গত বছরের মার্চে জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অধিকৃত গোলান উপত্যকায় ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ইহুদিবাদী দেশটির সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন সফররত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পাশে রেখেই ওই স্বীকৃতিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই স্বীকৃতির পরপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সিরিয়া। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ বলে উল্লেখ করে দামেস্ক। সিরিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতির প্রতিবাদ করেছে অনেক দেশ। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, এই বসতি উন্নয়নের জন্য ৮০ লাখ শেকেল (২৩ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয় করা হবে। গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল গোলান মালভূমির ‘রামাত ট্রাম্প’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া শুরু করবে। এটি ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব, যার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সূত্র : আলজাজিরা ৷

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য