চীনা সিস্টার সিটির শর্ত মেনেছে ঢাকা, উদ্বেগ বেড়েছে দিল্লির : জয়িতা ভট্টাচার্যের নিবন্ধ



জাগো প্রহরী : ভারতীয় নিবন্ধকার জয়িতা ভট্টাচার্য কঠিন প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, কোভিড–১৯ মোকাবেলায় বিপদে পড়া বাংলাদেশের পাশে দাড়িয়েছে চীন। কিন্তু শর্ত হলো, বাংলাদেশকে চীনের সিস্টার সিটি কূটনীতি মানতে হবে। চীন এর আওতায় ঢাকা উত্তরসহ কয়েকটি নগরকে তাদের মতো করে গড়ে তুলতে চাইছে। এতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এটা যে ভারত সুনজরে দেখবে না, তেমন দাবিই করেছেন তিনি।

এপ্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সরকারই কেবল নয়, মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের ওপরও উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে তুলছে বাংলাদেশ। কিন্তু এটা যে, অন্যান্য শক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয় স্থিতিশীলতায় একটা যোগসূত্র আছে, সেটা ভুলে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মিজ জয়িতা বাংলাদেশের বিষয়ে প্রকারান্তরে এই অভিযোগ করেছেন যে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিল।

তখন বৈশ্বিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে যে সন্দেহ–সংশয় রয়েছে, সেটা কার্যত উপেক্ষা করেছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বিশ্বে বিআরআই কর্মসূচির সমালোচনা রয়েছে ।

উল্লেখ্য, বিআরআইতে ভারতের অংশ গ্রহণ নিয়ে ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। অনেকে এর পক্ষে আছেন।

জয়িতা ভট্টাচার্য অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন ওআরএফ এর একজন সিনিয়র ফেলো। ওআরএফ–তে নেইবারহুড রিজিওনাল স্টাডিজ ইনিশিয়েটিভ নামে একটি আলাদা বিভাগ আছে। তিনি এই বিভাগের একজন সিনিয়র ফেলো । ভারতের প্রতিবেশী নীতিবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ মনে করা হয় তাকে।

ওআরএফ ওয়েবসাইট অবশ্য লিখেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিষয়ক’’তিনি একজন বিশেষজ্ঞ। অনলাইন উইকিপিডিয়ার মতে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন একটি শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন থিংক ট্যাংক। দিল্লি-কলকাতা চেন্নাইয়ে তাদের দপ্তর রয়েছে। উইকিপিডিয়া বলেছে, যদিও তারা স্বাধীন কার্যক্রমের দাবি করে থাকে কিন্তু তাদের তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ধীরুভাই আম্বানি পরিবার থেকে। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৯ সাল পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের বাজেটের ৯৫ ভাগ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি যোগান দিয়েছে।

চীনের ঋণ ফাঁদ
ঋণের বোঝা চাপিয়ে এবং কোন দেশ যদি ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে চীন সেটা থেকে সুযোগ নিয়ে থাকে। এই মন্তব্য করে উদাহরণ হিসেবে জয়িতা বলেছেন, শ্রীলঙ্কা তার একটি উদাহরণ । ঋণ পরিশোধ করতে না পরে তাকে তার ভূখণ্ডের একটি অংশ চীনকে ইজারা দিতে হয়েছিল এবং এটা সবারই জানা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্বাস করে যে একই ধরণের পরিস্থিতি মুখোমুখি তাকে হতে হবে না। এবং চীনের সঙ্গে তারা এ বিষয়ে অধিকতর ভাল দরকষাকষি করতে সক্ষম হবে ।

চলতি বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে এক টেলিফোন আলোচনায় বি আর আই এর প্রতি তার সহযোগিতার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জয়িতা লিখেছেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার । চীন বাংলাদেশ ২৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের অফার দিয়েছে । বি আর আই কর্মসূচির অধীনে এটা অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ প্রস্তাব । এই সহায়তার একটি বড় অংশই বাংলাদেশে ঋণ হিসেবে পাবে।

চীনের এই ভাবমূর্তি রয়েছে যে, তারা কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু এখন তারা সম্পর্ক গড়ে তুলতে সমর্থন দিচ্ছেন প্রকাশ্যেই।

জয়িতা ভট্টাচার্য মনে করেন এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে চীনা এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি পাবে। এখন যদি তারা সিস্টার সিটি ধারণা কার্যকর করতে পারে, তাহলে তারা বাংলাদেশে সমাজে আরো ভালোভাবে ঘনিষ্ঠ হতে পারবে । অংশীদারিত্ব বাড়াতে পারবে।

জয়িতা আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে , চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও দু'দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোচনায় এই বিষয়টি একটি বাধা হিসেবে কখনোই স্বীকৃতি পাচ্ছে না। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ এবং চীন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে । দুই দেশের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সামরিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে । চীনের অনুকূলে বাণিজ্য ভারসাম্য রেখে বাংলাদেশের তাদের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে । দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখা হয় না বললেই চলে।

চীনের প্রতি নরম, ভারতের প্রতি গরম
জয়িতা আরও উল্লেখ করেন যে এই সম্পর্কের অনুকূলে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীনের জনগণের সমর্থন একটা বিশেষ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে চীনের বিরুদ্ধে খুব কমই কোন নেতিবাচক সেন্টিমেন্টের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এমনকি গণমাধ্যম এবং সিভিল সোসাইটি গুলো পারতপক্ষে চীনের বিরুদ্ধে কোন অসন্তোষ ব্যক্ত করে না। এমনকি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রেও চীন যে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখে না, তা নিয়েও তাদের কোনো অসন্তোষ নেই ।

জয়িতা আরও লিখেছেন, এটা খুবই কৌতুহল উদ্দীপক যে রোহিঙ্গা সংকট নিষ্পত্তি না করতে ভারত কোন ভূমিকা পালন না করার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মিডিয়া এবং জনগণের কঠোর অসন্তোষ রয়েছে । ভারতের সঙ্গে তাদের যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেটা প্রায়ই তারা উল্লেখ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্বেগ প্রশমনে ভারতের যে প্রচেষ্টা রয়েছে , তারও স্বীকৃতি খুব সামান্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কতিপয় নারকটিক দ্রব্য ব্যতিরেকে বাংলাদেশকে যে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, এই বাণিজ্য সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয় না । অথচ এই পদক্ষেপের ফলে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে গিয়েছে। ২০১৯ সালে ভারতে বাংলাদেশি রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।

জয়িতা আরো বলেছেন, যদি কোনো ছোটখাটো চীনা সহায়তা বাংলাদেশের অনুকূলে হয়, তাহলে সেটা বাংলাদেশী মিডিয়ায় বিরাটভাবে তুলে ধরা হয়। উল্লিখিত পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য তুলে দেয়ার পর জয়িতা ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেছেন যে, চীন আগের মত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্লিপ্ত আর থাকবে না । তারা তাদের সেই অবস্থান বদলাবে এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে তারা ডিকটেট করতে চাইবে।

ভাবতে হবে বাংলাদেশকে
জয়িতা ভট্টাচার্য পরামর্শ দিয়েছেন যে , দুদেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উচিত হবে চীনের প্রস্তাবগুলোর তাৎপর্য ও কি প্রভাব পড়তে পারে সেটা বিবেচনায় নেয়া। তার কথায়, বাংলাদেশ যে সকলের প্রতি বন্ধুত্বের যে নীতি অনুসরণ করে চলছে তার পররাষ্ট্রনীতিতে, সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে তার সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ । দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং দক্ষিণ এশিয় মাত্রাগুলোর কথা বিবেচনা করা সমিচীন।

জয়িতা ভট্টাচার্যের এই নিবন্ধে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, সিস্টার সিটির পেছনে চীনের কি উদ্দেশ্য রয়েছে, সেই বিষয়ে।

তার কথায়, সাম্প্রতিককালে সিস্টার সিটি অ্যালায়েন্সকে চীন এগিয়ে নিচ্ছে, তার পিছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে । তার মতে চীন যে এতদিন সাংস্কৃতিক বন্ধনের উন্নয়নের কথা বলে আসছিল, তার সীমা তারা অতিক্রম করেছে এবং এটাই ফুটে উঠেছে যে, এই পদক্ষেপের একটি বৃহত্তর ভূ-কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে ।

২০১৯ সালে চিনা ডেইলি রিপোর্ট করেছিল যে, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে গঠিত চীনা পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্রেন্ডশিপ এর প্রেসিডেন্ট শাওলিন উল্লেখ করেছিলেন যে, বি আর আই ফ্রেমওয়ার্ক এর মধ্যে চিনা এবং বিদেশি নগরগুলোর মধ্যে সিস্টার সিটি সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । জয়িতা লিখেছেন , তার এই মন্তব্যের পরই বিদেশি নগরগুলোর সঙ্গে যাদের চুক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে এক ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়। বিআরআই হচ্ছে বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ। চীনের বিদেশনীতির অংশ। কারণ তাদের এই বি আর আই কর্মসূচিকে একটি বৈশ্বিক স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

জয়িতা ভট্টাচার্য তার নিবন্ধ লিখেছেন, বিআরআই কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই চীন বিশ্বের প্রায় ৭০০ নগরীর সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি করেছে।

জয়িতা আরও দাবি করেছেন, এই চুক্তিগুলো এমন সময়ে চীন এগিয়ে নিচ্ছে, যেটা অনেক সন্দেহ সংশয় বৃদ্ধি করেছে। কারণ তারা এটা করছে এমন একটা সময়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির নেতৃত্বে বৈশ্বিক অর্ডার নতুন করে একটা টানাপোড়েনের মুখোমুখি । বিআরআই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে দেয়ার জন্য ইউরোপের অনেক দেশ এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অনেক ইউরোপীয় শহর যারা ইতিমধ্যেই চুক্তি করেছিল, তারা তা এগিয়ে নিতে এখন শিথিল মনোভাব দেখাচ্ছে।

জয়িতা তার যুক্তির স্বপক্ষে উদাহরণ দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন সুইডেনের তিনটি শহর চীনের গুয়াংজু এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক চুক্তি করেছিল। তারা এর সমাপ্তি ঘটিয়েছে।

চীনা শর্ত
ওই নিবন্ধে বলা হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিসি বাংলাদেশকে কোভিড ১৯ মোকাবেলায় সহায়তা দিতে একটি প্রস্তাব দিয়েছে । তারা বলেছে বাংলাদেশ যদি চীনের নির্দিষ্ট কিছু শহরের সঙ্গে সিস্টার সিটি অ্যালায়েন্স বা জোট নগরী গড়ে তুলতে সম্মত হয়, তাহলে তারা ঐ সহায়তা পাবে । চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক বৈঠকে ওই প্রস্তাব দিয়েছে চীন। ঢাকার অন্যতম সিটি কর্পোরেশন ঢাকা উত্তর হবে সিস্টারদের অন্যতম। একে বন্ধুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সেটা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে নন্দিত হয়েছে।

কোন সন্দেহ নেই কোভিড ১৯ মোকাবেলা করার প্রেক্ষাপটে সিস্টার সিটি অ্যালয়েন্স গড়ে তোলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ।

অবশ্য একইসঙ্গে এই প্রশ্ন কেউ কেউ তুলছেন, চিনা এই উদ্যোগের নেপথ্যে আসলে তাদের মনোভাব কি ?

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই কলাম লেখা পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬৫ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০১২ জন ব্যক্তি মারা গেছেন। কতিপয় বেসরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি । কোভিড উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলেছে এবং বৈশ্বিক প্রবনতার মতোই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হোঁচট খেতে পারে । বাংলাদেশে এখন মরিয়া হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করছে । কারণ তাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে । একই সঙ্গে অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে । প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে । চীন বাংলাদেশকে কারিগরি এবং অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। ডেঙ্গু এবং অন্যান্য মহামারী রোধেও তারা পাশে থাকবে। কিন্তু শর্ত হলো বাংলাদেশ যদি তাদের প্রস্তাব মেনে নেয়। চীন অবশ্য আরো সুপারিশ করেছে যে বাংলাদেশ যদি তাদের প্রস্তাব নেয় তাহলে তারা তাদের শহরগুলোকে চীনা শহরের মতো গড়ে তুলতে সহায়তা দেবে।

সিস্টার সিটি কি
দুই দেশের নগরগুলোর ভিতরে চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে সিস্টার সিটিসমূহ গঠন করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারকে বলা হয়ে থাকে, তিনিই প্রথম সিস্টার সিটি সৃষ্টির ধারণা দিয়েছিলেন। এই ধারণার মূলকথা হলো সিস্টার চিঠিগুলোর নাগরিকদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক এবং কানেক্টিভিটি বাড়বে। এটাই প্রকারান্তরে দুই দেশের মধ্যে তৈরি করে দেবে একটা নাগরিক কূটনীতি বা সিটিজেন ডিপ্লোমেসি । ঐতিহ্যগতভাবে এই ধারণা গভীর হয়েছে যে, সিস্টার সিটি পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এবং দুই নগরী মনে করে যে তারা মিত্র নগরের নাগরিক।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয় যে, চীন এই কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমানহারে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে চলছে এবং তা ইতিমধ্যেই তাদের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে । আর এটা শুধু এই অঞ্চলেই নয়, গোটা বিশ্ব জুড়ে তাদের এই পরিকল্পনা এবং সেভাবেই তারা অগ্রসর হচ্ছে । চীনা শহরগুলোর মধ্যে বেইজিংয়ের রয়েছে সবথেকে বেশি সংখ্যক সিস্টার সিটি চুক্তি ।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য