করোনায় কালোজিরা: সৌদি গবেষকদের ‘আবিষ্কার’, বাংলাদেশের মিডিয়ার অতিরঞ্জন


ড.মুহাম্মাদ সরোয়ার হোসাইন।।

সম্প্রতি একটি খবর বাংলাদেশের প্রায় সব মেইনট্রিম পত্রিকায় প্রচার করা হয়েছে। অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এটিকে ধর্মের সাথে অহেতুক লিংক করে অজ্ঞাতসারে ধর্মকেও খাটো করা হচ্ছে।

কালোজিরাসহ অন্যান্য ভেষজের ঔষধি গু্নাগুন রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম প্র্যাক্টিশ করার চেষ্টা করি। শরীরকে তাজা রাখতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সবল রাখতে কালোজিরাসহ অন্যান্য ভেষজ সেবন করি। মনে রাখতে হবে যেকোন ভেষজ (যেমন কালোজিরা) হচ্ছে প্রাত্যহিক জীবনে অভ্যাসে অংশ।

কিন্তু করোনার মত মারাত্নক রোগীদেরকে ট্রিটমেন্ট হিসেবে বিজ্ঞানের নামে জাতীয়ভাবে প্রচার করা অন্যায়। যে জার্নালের পাবলিকেশনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে তা হচ্ছে একটি ভুয়া/ফেইক/প্রিডেটরি জার্নাল। সায়েন্টিক পাবলিকেশন বা প্রটোকল প্রতিষ্ঠিত করতে ছকে বাধা নিয়মে করতে হয়। কিন্ত ভুয়া জার্নালটি আমেরিকার একটি সুনামধন্য নামের সাথে মিল রেখে নামকরন করেছে ( American Journal of Public Health Research) যার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে ধোঁকা দেয়া।

বিশ্বব্যাপী প্রিডেটরি জার্নাল, পাবলিশার, কনফারেন্সে সয়লাব যা কিনা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের মত বিজনিস। সাউথ এশিয়া এবং আফ্রিকাতে এই ভুয়া জার্নালগুলো বেশ পপুলার। দেশের মেডিকেল ফিল্ড থেকে বেশীর ভাগ পাবলিকেশন হচ্ছে এই সমস্ত ভুয়া জার্নালে।

প্রসঙ্গত, আমার এক ছাত্র ছিল যিনি মেডিকেল টেকনোলিজিস্ট হিসেবে বংগবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডিপার্টমেন্টে জব করতেন। প্রথম ক্লাসে তিনি জানান তার নাকি ৩০টির মত পাবলিকেশন! অনেক ভাল ইম্পেক্ট ফ্যাক্টর জার্নালেও নাকি পেপার পাবলিশ করেছে। ক্লিনিসিয়ান ফ্যাকাল্টিদের পেপার লিখে দেন! সে সব করে বসদের নাম দিয়ে দেন। এটি শুনে আমি রীতিমত অবাক বিস্মিত। বাংলাদেশে এমন লেভেলে কাজ করেন যা আমার চোখে পড়েনি! আমি বাংলাদেশের রিসার্চ পেপার নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করি। পরে ঘাটাঘাটি করে দেখলাম তারা মূলত প্রিডেটরি জার্নালে দিয়ে পেপার পাবলিশ করেছেন। দু;খজনক হলেও সত্য যে সেই ছেলেটি আমার কোর্সে (মাইক্রোবায়োলজিতে) ফেল করেছে যা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভাবনীয় ঘটনা! সেই ‘রিসার্চার’ আমার কোর্সের ফাইনাল পরিক্ষায় ৪ মার্ক পেয়েছিলেন!

কোন কিছুকে ধর্মের সাথে লিংক করে খবর দিলে তা জনপ্রিয় হয় আমাদের দেশে। পত্রিকাওয়ালারা নিজেদের অজ্ঞতা এবং জনসাধারণের অজ্ঞতাকে পুজি করে তাদের কাটতি বাড়ানোর চেষ্টা করে। এই দায় মিডিয়া এবং দেশের রিসার্চাদেরকেই নিতে হবে। ভাল জার্নালে পাবলিকেশন করার চেয়ে তথাকথিত রিসার্চারদের প্রেস কনফারেন্সের প্রতি ঝোঁক বেশি।

দেশের সাধারণ জনগণকে শিক্ষিত মানুষরাই বিজ্ঞান অথবা উচ্চ শিক্ষার আড়ালে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন।

লেখক: ড.মুহাম্মাদ সরোয়ার হোসাইন, নির্বাহী পরিচালক, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ৷

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য