পোশাক শ্রমিককে তুলে নিয়ে ধর্ষণ বাস্তুহারা লীগ নেতার,পরে গ্রেফতার

আনোয়ার হোসেন ওরফে সোর্স আনোয়ার


জাগো প্রহরী : চট্টগ্রামে এক পোশাক শ্রমিককে অপহরণের পর নির্জন পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছে আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ওরফে সোর্স আনোয়ার। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ফরেস্ট বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক সোর্স আনোয়ার ও তার সহযোগী হেলালকে গ্রেফতার করেছে। ১৯ বছর বয়সী তরুণীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোর্স আনোয়ার ও তার সহযোগীকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের দু'জনের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোর্স আনোয়ারের বিরুদ্ধে মিরাজ মার্ডারসহ হত্যা সন্ত্রাস চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগে অন্তত ১৭টি মামলা ও চারটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ দিকে গ্রেফতারের পর আওয়ামী বাস্তুহারা লীগ নেতা আবদুল নবী লেদু, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধিসহ তাকে শেল্টার দেয়া সরকারি দলের নামধারী কয়েকজন নেতা থানা থেকে সোর্স আনোয়ারকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে সূত্র জানায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই নুর নবী বলেন, ১৯ বছর বয়সী ওই পোশাক শ্রমিক বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ডেবারপাড় নিজ বাসা থেকে ফরেস্ট বাগান সংলগ্ন খালার বাসায় মুরগি নিয়ে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ফেরার পথে আনোয়ার ও হেলাল ওই মেয়েটিকে একা পেয়ে অপহরণের পর ফরেস্ট বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।

তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে ভর্তি করে। বাদীর শনাক্ত মতে ধর্ষক আনোয়ারকে তার ডেবারপাড়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো মতো গ্রেফতার করা হয় সহযোগী হেলালকে। তাদের দু'জনকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ার হোসেনের পিতার নাম মৃত আবদুর রউফ। বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ডেবারপাড় জামতলা এলাকায় তার আবাস। সোর্স আনোয়ার এক সময় যুবদল করত। র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার পেটকাটা বাবরের সহযোগী ছিল সে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার শেল্টারে আসে। সরকারি জমি দখল করে নিজেই হয়ে যায় আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের বায়েজিদ বোস্তামী থানা কমিটির স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক। হত্যা খুন ডাকাতি চাঁদাবাজি সরকারি জমি দখল-বেদখল থেকে শুরু করে হেন কোনো অপকর্ম নেই সোর্স আনোয়ার করে না। একই সঙ্গে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় তাকে এলাকার লোকজন ‘সোর্স আনোয়ার’ হিসেবেই চিনে।

জাগো প্রহরী/এফআর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য