কথিত মানহাযী নামধারী ব্যক্তির কওমি মহিলা মাদরাসার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক পোস্ট ও কিছু কথা


জাইফা সাবেরী ৷৷

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্লোবাল জিহাদের কথা বলে
নিজেদেরকে মানহাযী নামধারী একদল লোকের দেখা মিলেছে,যারা সময়ে সময়ে কওমি মাদরাসা ও উম্মতের ওলামায়ে কেরামের বিরোধিতা করে নানা রকমের বিষোধগারমূলক লেখালেখি করে এবং জনগণের মাঝে ইসলাম ও জিহাদ সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ৷ তাদের লেখালেখি থেকে বুঝা যায় যে,তারা শুধু জিহাদকেই একমাত্র ইসলাম মনে করে ৷ অন্য কোনো শরয়ী বিষয়কে ইসলামই মনে করে না ৷ অথচ ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান ৷ জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে ৷ জিহাদ ইসলামের অন্তর্ভূক্ত একটি বিশেষ ইবাদত ৷ জিহাদ শব্দটি ব্যাপক অর্থ বহন করে ৷ জিহাদেরই একটি শাখা হলো কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ তথা সশস্ত্র সংগ্রাম ৷ এদের লেখালেখি থেকে বুঝা যায়,এরা কিতাল ফি সাবিলিল্লাহকে একমাত্র জিহাদ মনে করে ৷ এভাবে কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা এবং জিহাদের শর্ত-শারায়েত না বুঝে মাঝে মাঝে বিভিন্ন আত্মঘাতী বোমা হামলার মাধ্যমে সমাজে ইসলাম সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা সৃৃৃষ্টি করে ৷ ইদানীং এ চিন্তাধারার একটা ফেসবুক আইডি থেকে আদর্শ নারী গড়ার প্রতিষ্ঠান কওমি মহিলা মাদরাসা সম্পর্কে বাজে নেগেটিভ লেখালেখি করে জনগণের মাঝে মহিলা মাদরাসা সম্পর্কে বিদ্বেষী মনোভাব তৈরির চেষ্টা করে ৷ ওই কথিত মানহাযী নামধারী মহিলা মাদরাসা বিদ্বেষী ব্যক্তির পক্ষ থেকে আপত্তিমূলক প্রশ্নের কিছু বিশ্লেষন নিচে করা হলো -


১। সে লিখেছে : 'কওমী মহিলা মাদ্রাসা দাওরা
পড়ুয়া মেয়েদের আক্বীদা-মানহায
শতকরা ৯৯.৫০ % ঠিক নাই।'

- অথচ ঈমান ভঙ্গের কারণ ও আক্বীদার কিতাবসমূহ
মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণি থেকে পড়ানো শুরু হয়।
ধারাবাহিকতায় দাওরা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আলোচনা
অব্যাহত থাকে।
☞এখানে সে মিথ্যাচার করেছে।

২। সে বলেছে : দাওরা পড়ুয়া মেয়েদেরও নাকি
কুরআন তেলাওয়াত সহীহ না!

- নাউজুবিল্লাহ! কওমি মাদরাসার স্টুডেন্টদের কুরআন তিলাওয়াত সহীহ হওয়ার বিষয় পুরো বাংলাদেশ
এখন জানে। যা পরিপূর্ণ শুদ্ধ।
শিশু শ্রেণি থেকেই তাজবিদ মাখরাজের আলোচিত
চর্চা। যা প্রসিদ্ধ।
☞এখানেও সে মিথ্যাচার করেছে।

৩। সে বলেছে : কওমি মাদরাসার মেয়েরা নাকি মাহমুদ গজনবী ও মুহাম্মাদ বিন কাশিমের মতো নেক সন্তান
হোক। এটা নাকি তাঁরা কল্পনাও করে না।

- নাউজুবিল্লাহ! কওমির মেয়েরা নেক সন্তান কল্পনা
করে না, তো কারা কল্পনা করে? একজন সাধারণ
মানুষও তো নেক সন্তানের আশা করে।
☞ এখানে সে কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে মিথ্যাচারের
সীমা অতিক্রম করেছে।

৪। কওমি মাদ্রাসার মেয়েরা নাকি সংসার স্বামী
খেদমতে অমনোযোগী শতকরা ৯৮%।

- নাউজুবিল্লাহ! বর্তমান যুগে স্বামী সংসার বিরোধী ও
নারী স্বাধীনতার শ্লোগান কারা তুলেছে? কোনো
মুসলিমও নয়। কিছু হিন্দু মহিলা এসমস্ত শ্লোগান
নিয়ে রাস্তায় নেমেছে।
আর মানহাযীরা সেখানে কওমিকে জুড়িয়ে দিলো?

এমন সরাসরি এক মিথ্যাবাদীকে কিছু মানুষ
প্রোটেকশন দেয়।

কমেন্টে গিয়ে জ্বি হুজুর! ঠিক! জ্বি হুজুর ঠিক!
শুধু তাই নয়, আমাদের কমেন্টগুলো লুকিয়ে ডিলেট
করে দিয়েছে। শুধু জ্বি হুজুরদের রেখেছে।

এমন স্পষ্ট মিথ্যাবাদীর পক্ষেও কিছু অন্ধভক্ত জ্বি
হুজুররা কপি পোস্টও করে। আর এই মানহাযী
মিথ্যাবাদীরা প্রতিদিন ইসলামিক পোস্ট অব্যহত
রাখে,যাতে হঠাৎ হঠাৎ মিথ্যা বললে কেউ ধরতে না
পারে। সময় টিভি চ্যানেলের মতো৷

মানহাযী ফিতনা বাংলাদেশের কওমি অঙ্গনের এখন প্রধান ইস্যু।

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য