ভিআইপিরা কি এখন বুঝতে পারছেন দেশের প্রকৃত উন্নয়নের কতটা প্রয়োজন ছিলো?


এহসানুল হক ৷৷

করোনা আক্রান্ত হয়ে বিদায় নিলেন মুহাম্মাদপুরের সাবেক এমপি মকবুল হোসেন। বলা যায়, করোনার অবস্থান এখন উপরতলায়। একে একে ভিআইপিদের আক্রান্তের খবর আসছে। এর আগে বিদায় নিয়েছেন একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, এস আলম গ্রুপের পরিচালক, সাবেক সচিব। আরও আক্রান্ত হয়েছেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান, একজন এমপি, আরেক মন্ত্রীর মা। এমন নাম অজানা আরও অনেকে। 

ভিআইপিরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, এটা নিশ্চয় কোন খুশির খবর নয়। এদের মধ্যে অনেকেই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। তাদের সবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। তবে কিছু মানুষের কথা বলতেই হয়। এই ভিআইপিদের একটা শ্রেণী সামান্য অসুস্থতায় সিঙ্গাপুর ব্যাংকক উড়ান দিতেন। দেশের জন্য কিছু না করে বিদেশের মাটিতে আখের গুছিয়েছেন। তাদের কি লাভ হয়েছে? আজ তারা কোথাও যেতে পারছেন না। এখন কি তারা টের পাচ্ছেন দেশের উন্নয়ন কতটা প্রয়োজন ছিলো? দেশ গোল্লায় গেলে সবারই যে ক্ষতি এবার তারা উপলব্দি করতে পারছেন? দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় তারাও চাইলে অনেক কিছুই করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেনি। করোনা না এলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই বেহাল দশা হয়তো সামনেও আসতো না।

করোনা একদিন ঠিকই চলে যাবে। এরপর কি মানুষ এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিবে? দেশের চৌদ্দটা বাজিয়ে বিদেশে প্রাসাদ গড়া বন্ধ করবে? হিংসা বিদ্বেষ, হানাহানির রাজনীতি বন্ধ করবে? আপনি কি মনে করেন? যদি শিক্ষা নেয় তাহলে তো অনেক ভালো। কিন্তু আমি আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দেখি না। করোনা পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এটা বলা গেলেও আমরা হয়তো আগের জায়গাতেই থেকে যাবো। করোনার এই কঠিন সময়েও আমরা প্রকৃত মানবিক আচরণ করতে পারিনি। পরিবর্তনের কোন লক্ষণও দেখছি না। 

এমন কঠিন সময়ে এলো ঈদ। পৃথিবীবাসীর জীবনে এমন ঈদ আর কখনো আসেনি। করোনা ভাইরাস আতংকে সব দেশের মানুষ প্রায় তিন মাস যাবৎ ঘরবন্দী। এই বন্দীদশা থেকে কবে মুক্তি মিলবে তা কেউ জানে না। রমজান এর আগে ধারণা করেছিলাম, রমজান এলে করোনা হয়তো বিদায় নিবে। তা হয়নি। এরপর ভাবলাম, রমজানের শেষ দিকে তো চলেই যাবে, সেটাও হয়নি। এখন শুনছি করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের চলতে হবে। তাহলে এতদিন লকডাউন  এর ফল কি?

এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি কবে, ভ্যাকসিন কবে আসছে, প্রতিষেধক কবে আসছে সেই খোঁজ আগে নিতাম। এখন এসব খবর আর নেই না। বিজ্ঞান মারফত মিডিয়ার প্রতিদিন উল্টাপাল্টা খবর দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গেছি। এখন ভ্যাকসিন সংক্রান্ত কোন খবর দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। ভরসা কেবলই আল্লাহর উপর এটাই বুঝি। আল্লাহ যেদিন চাইবেন সেদিনই মুক্তির উপায় বের হবে।

আসুন, এখান থেকে শিক্ষা নেই। মানসিকতা বদলাই। পদ পদবী, ক্ষমতা, দম্ভ, অহংকার সব ক্ষণস্থায়ী। সব তুচ্ছ। চলে যেতে হবে যে কোনো সময়। পৃথিবীর আনুমানিক এক কোটি মানুষ, বাংলাদেশের প্রায় এক লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত। এখনো যে ভালো আছি সেজন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার প্রবণতা ত্যাগ করি। ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় নিদের্শনা মেনে চলতে চেষ্টা করি। দলীয় হানাহানি বাদ দিয়ে দেশের জন্য, দশের জন্য কিছু করি। এতেই স্বার্থক হবে জীবন।

লেখক : সহকারী সম্পাদক,মাসিক রাহমানী পয়গাম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য