ফুটপাতে বেচাকেনা কিছুটা হলেও মাথায় হাত মার্কেটের ব্যবসায়ীদের


জাগো প্রহরী : রোববার দুপুর ২টা। রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের প্রবেশপথে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের মেশিন হাতে দাঁড়িয়ে একজন নিরাপত্তারক্ষী। ক্রেতা এলেই তাপমাত্রা স্বাভাবিক কি-না তা নিরীক্ষা করা তার দায়িত্ব। এরপর ক্রেতার জন্য জীবাণুনাশক কক্ষ দিয়ে মার্কেটে প্রবেশের ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যাদের জন্য এই আয়োজন সেই ক্রেতারই দেখা নেই!

অথচ অন্যান্য বছর রমজান মাসের শেষে এ সময়টায় এমন দৃশ্য কল্পনা করাও যেত না। মার্কেটটি সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকত। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী শ্রেণির ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতেন বিক্রেতারা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা হলেও আজিজ সুপার মার্কেটে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা মেলেনি।

এমন অবস্থা রাজধানীর অন্যান্য প্রায় সব মার্কেটেই। সীমিতসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বেচাকেনা তেমন নেই। সে কারণে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।

তবে উল্টো চিত্র ফুটপাতে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা মার্কেট, হকার্স মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে আজ রমজানের শেষ দিনেও ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বেচাকেনা হতে দেখা গেছে বেশ। ফুটপাতগুলোতে নিম্নআয়ের লোকজনের উপস্থিতি বেশি।

সে হিসেবে বলা যায়, তুলনামূলক বিত্তবানদের জন্য যেসব মার্কেট খোলা হয়েছে, সেসব মার্কেটে ক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল না। মার্কেটে এবং দোকানে প্রবেশের আগে জ্বর পরিমাপ করা, জীবাণুনাশক কক্ষের ভেতর দিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হলেও করোনা সংক্রমণের ভয়ে ক্রেতারা আসেননি মার্কেটগুলোতে।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৮০ জন। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছেন রেকর্ডসংখ্যক ২৮ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৩২ জন।

জাগো প্রহরী/এফ আর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য