রাজধানীতে ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে মারধর, মালিকসহ গ্রেফতার ২


জাগো প্রহরী : করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ না করায় ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন বাড়ির মালিক। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ও তার ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রাজধানীর চকবাজার থানাধীন এলাকায় ঘটেছে এমন ঘটনা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বাসার মালিক রাজু আহমেদ ও তার ভাতিজা সোহান।

 মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে হোসনী দালান গলির একটি বাসায় বসবাসরত ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে পাওনা ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পিঠা ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. হান্নান (৫০) দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে ওই ভাড়া বাসায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। মাসিক ১২ হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পরিশোধ করলেও কখনও আগে সমস্যা হয়নি।

তবে সম্প্রতি করোনা সংকটের কারণে পিঠা ও ঝালমুড়ি ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এবার সময়মতো বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি তিনি।
এ কারণে মঙ্গলবার হান্নানের বাসায় তালা মেরে দেন বাড়ির মালিক। বিকেলে মালিক রাজু আহমেদকে বাসার চাবি দিতে অনুরোধ করলে তিনি রাগান্বিত হন। এবারই প্রথম সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রয়োজনে বাসা ভাড়ার অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা থেকে ভাড়া কেটে নেওয়ার অনুরোধ জানান হান্নান।

আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে ভাড়াটিয়া হান্নানের বুকে আঘাত করেন বাড়ির মালিক। পরে হান্নানসহ তার দুই ছেলে আল আমিন (২৪) ও সাইদুল ইসলামকে (২০) পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বাড়ি থেকে বের করে দেন তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ডিএমপির চকবাজার জোনের সহকারি কমিশনার (এসি) মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ওই বাসার মালিক রাজু আহমেদ ভাড়ার জন্য মঙ্গলবার আরও ভাড়াটিয়ার ঘরে তালা দিয়েছিলেন। সবাই চাবি ফেরত পেলেও হান্নানের পরিবারকে চাবি দেওয়া হয়নি। এই করোনার দূর্যোগের মধ্যেও মাত্র এক মাসের ভাড়ার জন্য দীর্ঘদিনের ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ভাড়াটিয়াদের মারধর করে জখমের অপরাধে বাড়ির মালিক রাজু আহমেদ ও তার ভাতিজা সোহানকে তাৎক্ষনিক আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগে ভিত্তিতে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ ওই বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) গ্রেফতার রাজু আহমেদ ও তার ভাতিজা সোহানকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান এসি ইলিয়াছ হোসেন।

 জাগো প্রহরী/এফ আর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য