ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও ফুলের পাপড়ি: জনগণের জন্য আরেকটি বিনোদন?


জাগো প্রহরী : নরেন্দ্র মোদি সরকার আবারো এমন এক মহড়ার কথা ঘোষণা করলেন, যা ইতোমধ্যেই পাশ্চাত্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। শুক্রবার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও তিন বাহিনীর প্রধানেরা ঘোষণা করেছেন যে সকল করোনা যোদ্ধার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা করছে এমন সব মেডিক্যাল স্থাপনায় ফুলের পাপড়ি বর্ষণের জন্য ৩ মে ভারতীয় বিমান বাহিনী দেশজুড়ে ফ্লাই পাস্টের আয়োজন করবে। জেনারেল রাওয়াত আরো ঘোষণা করেন, নৌবাহিনী একই দিন সব জাহাজে আলোকসজ্জা করবে।

এটি ভারতীয় জনসাধারণের জন্য আরেকটি বিনোদনের আয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য জাঁকজমকপূর্ণ মহড়া কখনো কৌলিন্য হারায় না। গত ২৮ এপ্রিল মার্কিন বিমানবাহিনীর থান্ডারবার্ডগুলো বেশ কয়েকটি আমেরিকান নগরীতে একই ধরনের মহড়া করেছিল।

এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদফতর পেন্টাগন ঘোষণা করে যে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে অবস্থান করে যারা লড়াই করছে, তাদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ব্লু অ্যাঞ্জেল ও থান্ডারবার্ডগুলো এয়ার স্যালুট দেবে। জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে এটি ‘অপারেশন আমেরিকা স্ট্রং’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডেমোন্ট্রেশন স্কোয়াড্রন হিসেবে ব্লু অ্যাঞ্জেল ও থান্ডারবার্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। পেন্টাগন জানায় যে তারা ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, নিয়ার্ক, ট্রেনটন, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন ও অস্টিনের ওপর দিতে উড়ে যাবে।

এ ধরনের বিশেষ কোনো স্কয়াড্রোন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নেই। কিন্তু তবুও একই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ হাতছাড়া করার অবকাশ নেই। জেনারেল রাওয়াত ঘোষণা করেন যে শ্রীনগর থেকে ত্রিভানদ্রুম ও আসামের ডিব্রুগড় থেকে গুজরাট – সবজায়গা থেকে বিমান বাহিনীর জঙ্গি ও পরিবহন বিমানগুলো ফ্লাই করবে।

পাপড়ি বর্ষণ ভিন্ন ধারণা হিসেবে অভিহিত করতে পারেন কেউ কেউ। তবে ২০১৮ সালে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের কানওয়ার যাত্রাতেও পাপড়ি বর্ষণ করা হয়েছিল।

উদ্দীপনা না নকল?

গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী অপরিহার্য কর্মীদের প্রশংসা করে লোকজনকে তাদের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থালাবাটিতে শব্দ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি লোকজনকে ৯ মিনিট বাতি জ্বালানোর আহ্বান জানান। এই উভয় কর্মসূচিই ইতালিতে উদযাপিত অনুষ্ঠানের অনুকরণ। ইতালিতেও লোকজনকে ব্যালকটিতে নেমে এসে স্বাস্থ্যপরিচর্যা কর্মীদের সমর্থন করতে মিউজিক ও নৃত্য করতে বলা হয়েছিল। মোদির ঘোষণার কয়েক দিন আগে এ ধরনের ইউরোপিয়ান অনুষ্ঠান সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল।

এখন আমেরিকার বিমান বাহিনীর উদ্যোগের সাথে মিল রেখে ভারত সরকারও পাপড়ি বর্ষণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমেরিকার ওই কর্মসূচির সময় শত শত লোক ব্লু অ্যাঞ্জেল আর থান্ডারবার্ডের পারফরমেন্স উপভোগ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ অগ্রাহ্য করে রাস্তায় আর পার্কে নেমে এসেছিল।

ভারতীয় উদ্যোগও একই পরিণতি বরণ করতে পারে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। প্রথম যে সমস্যাটি হবে তা হলো শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে বর্ষণ করা পাপড়িগুলো হাসপাতালের আঙ্গিনা থেকে পরিষ্কার করে সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলার জন্য হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত কাজ করতে হবে।

তা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনী ৩ মে দর্শনীয় আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে এবং তা ব্যাপক প্রশংসাও পাবে। পরেরবার যখন মোদি সরকার এ ধরনের কিছু করার পরিকল্পনা করবে, তখন সামান্য হলেও মৌলিকতা যাতে থাকে সেই আশাবাদ থাকবে ৷

সূত্র : দি ওয়্যার

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য