মসজিদগুলোর কথা ভাবুন


মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী ৷৷

সারাদেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ মসজিদের কার্যক্রম ভীষণ রকম সীমিত। বিশ্বব্যাপী মানবজাতি আগে আর কখনো এমন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়েছে বলে স্মরণকালে দেখা যায় না। আমাদের দেশের ৯৮ ভাগ মসজিদের আর্থিক অবস্থা জনগণের আন্তরিকতা উদারতা ও অংশ গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে মসজিদের জরুরি ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হচ্ছে, ঈমানদার মানুষ মাত্রকেই খবর রাখতে হবে। মসজিদ আমাদের ঈমানের প্রতীক। আমাদের জাতীয় গৌরব। আমাদের বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়।

জুন জুলাই আগস্ট পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে এখনো বলা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী ইশারা দিয়ে রেখেছেন। সবই নির্ভর করছে এই ভয়ঙ্কর বালা মুসিবতটির গতিবিধির ওপর। অন্তত চলতি বছর ভরেই মসজিদের খবরাখবর আমাকে-আপনাকে রাখতে হবে। যে সাহায্য সহযোগিতা আগে করতেন, এরচেয়ে বেশি এবার করতে হবে এবং গিয়ে পৌঁছে দিতে হবে। আল্লাহর ঘরে নীরবে অনালোকিত থেকে যাবে, আর আল্লাহর কাছে আমাদের উদাসীনতার নালিশ করবে, তা হতে পারে না।

মসজিদের বিদ্যুৎ, পানি, পরিচ্ছন্নতা, খেদমত, ইমাম-খতীব-মুয়াজ্জিন-খাদেম এবং আনুষঙ্গিক খাতের ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রধানত পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব। কমিটিকেই আত্মমর্যাদা বজায় রেখে এর একটি সম্মানজনক ঘরোয়া ও সামাজিক সমাধান করতে হবে।

মসজিদের বড়ো আয় হচ্ছে দানবাক্স। নামাজিদের অভ্যাস গড়ে উঠেছে বাক্সটা কাতারে চালানোর সময় এই দানটি করার। কোভিড-১৯ এর জন্য মসজিদে যাওয়া সম্ভব নয় বিধায় এবার সবাই নামাজ ঘরে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। জুমা, তারাবি ও পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে বাক্সের মাধ্যমে আয় এখন বন্ধ। প্রয়োজন তো বন্ধ হয়ে যায়নি। আমাদেরকে বিপদ-আপদ দূর রাখার জন্য নবী করীম স.এর হুকুম মতো নেক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

মুসল্লিরা এ দানগুলো নিজ দায়িত্বে মসজিদের স্থায়ী বাক্স কিংবা জিম্মাদার ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিন। যারা ইফতার হাদিয়া ইত্যাদি দিতেন, তারা মনে রাখবেন, মসজিদ কিন্তু বন্ধ নয়। আজান নামাজ জুমা তারাবি ইত্যাদি সবই হচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম মতো জানাজায় উপস্থিতির জন্য মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। মহামারীর দোয়া কালাম পাঠ ও শিক্ষা দান করা হচ্ছে। সাহারির সময় জাগানোর এলান হচ্ছে। সুতরাং হাদিয়ার নিয়ম ও ঐতিহ্য বজায় রাখুন। সঙ্কট মুহ‚র্তে বেশি করে এসব দায়িত্ব পালন করা উচিৎ।

যেসব মসজিদের তারাবির ইমামকে হাদিয়া দেয়ার রীতি প্রচলিত আছে, তারা এবারও হাফেজ সাহেব ও ইমামগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন পূর্বক যথারীতি হাদিয়া পৌঁছে দিন। হাদিয়া যেহেতু কোনো বিনিময় বা পারিশ্রমিক নয়, অতএব এবছর অধিক নির্মল এ হাদিয়া চর্চার সুযোগ নিন। নিকটস্থ ও পরিচিত আলেম, হাফেজ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং আনুষঙ্গিক খাতের ব্যয় সবচেয়ে সম্মানজনক বরকতময় ব্যয়। আপনার সম্পর্কের নেটওয়ার্ক তৈরি করে আল্লাহর নৈকট্যশীল লোকেদের খেদমত করুন। রমজানের বরকতে শরিক হোন। হাদিয়া অর্থ সম্পদ ও ঈদের উপহার পাঠানোর মাধ্যমে আল্লাহকে খুশী করুন। আখেরাতে মহাবিপদের সময় এই আদান-প্রদান আপনাকে জান্নাতে নিতে পারে। আল্লাহর কাছে এ ধরনের মানুষের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের ম‚ল্য অপরিসীম। অভাব অভিযোগ প্রকাশ করে না, এমন পরিচ্ছন্ন জীবনধারার দরিদ্র মানুষ আল্লাহর কাছে খুব প্রিয়। যারা নবী করীম স. এর বক্তব্য অনুযায়ী অন্যদের তুলনায় পাঁচ শ’ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

আসুন দুর্বোধ্য বান্দাদের খোঁজ রাখি!
মদিনার কিছু মুহাজিরের একটি জীবনচিত্র আমাদের আশেপাশের অনেকের জীবনেও দৃশ্যমান। আসুন, খোঁজ খবর রাখি। সম্মানজনক কায়দায় সহায়তা করি। বিশেষ করে হালাল উপার্জনকারী বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ এবং সামর্থ্যবান আলেম-উলামা-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজপতি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, বিশেষ করে প্রখ্যাত ও বিত্তশালী খানকাহ, দরবার এবং সম্পদশালী পীর-মাশায়েখের প্রতি এই আবেদন রইলো। তারা ইতিহাসের পীর মাশায়েখ ও দরবারের মতো সাহায্য কেন্দ্র খুলে ধর্মীয় অঙ্গনে কল্যাণ কাজ করবেন। সাধারণ মানুষের জন্য খেদমতের এই সুযোগ নিয়ে দীনি আদর্শকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছে, দুনিয়ায় ঘুরে উপার্জন করতে পারে না, তাদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ লোকজন আত্মমর্যাদার ফলে তাদের বিত্তবান বলে মনে করে, কেননা তারা মানুষের কাছে খোলামেলা হাত পাতে না। তাদেরকে চেনা যায়, তাদের চালচলনের আভাস থেকে। যতো কল্যাণ কাজে তুমি অর্থ সম্পদ দান করবে, সেসব সম্পর্কে আল্লাহ খুব ভালো জানেন’। (আল-কোরআন, সুরা আল-বাকারাহ-২৭৩)
স্মরণকালের ইতিহাসে নজিরবিহীন এই করোনা মহামারী দুর্যোগের সময়ে জাতীয় বীরদের সালাম। তারা হচ্ছেন, মসজিদের ইমাম খতীব মুয়াজ্জিন খাদেম। জনগণকে মোটিভেট করা, আধ্যাত্মিক প্রেরণা দান, দোয়া দরুদ জিকির তিলাওয়াত ও তসবিহ শিক্ষা দান, সারা বছর মানুষকে ভয় সঙ্কট ও দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আল্লাহর আশ্রয় নেয়া এবং সাধ্য মতো ত্রাণকাজের সাথে যুক্ত আলেম-ওলামা-পীর-মাশায়েখ এবং ছাত্র যুবক তরুণ আর দীনদার জনতা। করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা, খোঁজখবর, খিদমত, মৃতের গোসল, দাফন-কাফনে অগ্রসর ইসলামী সেবকদল। তারা আজকের নতুন জনযুদ্ধের সেনাপতি। দেশপ্রেমিক জনগণের অগ্রপথিক বন্ধু। তারা ডাক্তার নার্স স্বাস্থ্যকর্মী প্রশাসন আর্মি র‌্যাব পুলিশ মিডিয়াকর্মী ও অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রণাঙ্গণে সাহসিকতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন।

এদের মধ্যে এবং এদের মাধ্যমেও হয়তো আমরা সন্ধান পেতে পারি আয়াতে বর্ণিত ওসব আত্মমর্যাদাবান দুর্বোধ্য মেজাজের বান্দাগণের মতো কিছু মানুষের, যাদের কথাই আল্লাহ আমাদের এ আয়াতে জানিয়েছেন।

বালা মুসিবত গজব আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দান সদকা ও নেক কাজে ব্যয়ের ফলাফল নগদে পাওয়া যায়। নিজের রিজিক বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ নেক কাজে অর্থ সম্পদ ব্যয়ের প্রতি দান ৭০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত, আর রমজান উপলক্ষে এসব আরো অধিক গুণ বৃদ্ধি পায়। রমজানের বরকতে নফল কাজকে আল্লাহ ফরজ ইবাদতের সমান গুরুত্ব দেন। নিয়ত অনুযায়ী এবং অভাবের সময় হওয়ার কারণে এর বিনিময় বা সওয়াব অসংখ্য গুণে ও পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। মসজিদের দিকে খেয়াল রাখুন, আল্লাহ আপনার সর্বাঙ্গীণ উন্নতি দিবেন এবং আপনার যাবতীয় সমস্যার জন্য আল্লাহ নিজেই যথেষ্ট হয়ে যাবেন।

সরকারের উচিৎ এ দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আগত রমজান ও ঈদ উপলক্ষে দেশের সাড়ে চার লাখ মসজিদের ১৫/২০ লাখ মানুষের এই কর্মশক্তিটিকে একটি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে সম্মানিত ও সহায়তা করা। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কয়েকটি ইমাম সংগঠনকের সহায়তা নিয়ে তালিকা তৈরির দায়িত্ব দিলে এটি খুব সহজেই সরকার করতে পারে। তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেয়া মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে দ্রæত টাকা দিয়ে দেয়া যায়। যাতে মন্ত্রী এমপি নেতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মশক্তিকে কোনো ঝামেলা পোহাতে না হয়।

মসজিদের জন্য এভাবে কথা বলতে হবে, তা আগে আমরা ভাবিনি। এদেশে অন্যান্য ধর্মের উৎসব আয়োজনে জীবনভর সরকার গম, চাউল ও নগদ টাকা দিয়ে থাকে, মসজিদের জামাত, তারাবি, ঈদ উপলক্ষে দেশের মানুষই অর্থ সম্পদ ব্যয় করে থাকেন। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। জনগণের পাশাপাশি সরকারও কিছু সহায়তা দিলে ভালো হয়। এ বিষয়ে দেশের নানা জায়গা থেকে ইমাম, কমিটির দায়িত্বশীল এবং কিছু ইমাম সংগঠন নেতৃবৃন্দ আমাদের অবস্থা জানিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা ও দারুল আরকাম মাদরাসার ৮০ হাজার আলেম ও ইমাম শিক্ষক গত জানুয়ারি থেকে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। এ প্রকল্প চালু করা এবং সবধরনের নিয়োগকৃত মানুষকে সহযোগিতা করা সরকারের কর্তব্য। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা গণশিক্ষা ও দারুল আরকাম মাদরাসার লোকেরা আমাদেরকে তাদের অবস্থা তুলে ধরার কথাও জানাচ্ছেন।

বিশ্ব মুসলিমের কাছে এ দৃশ্য সম্পূর্ণ নতুন। এ পরিস্থিতির সাথে তারা পরিচিত নন। পবিত্র মক্কা ও মদীনা শরীফের দুই প্রধান মসজিদ খুবই সীমিত আকারে খোলা। রমজানের সময় বিগত বছরগুলোতে মক্কার মসজিদুল হারামে মুসল্লি হতেন ১০ থেকে ২০ লাখ। মদীনার মসজিদে নববীতে নামাজ পড়তেন ৬ থেকে ৮ লাখ মুসল্লি। আর এবার ওমরাহ বন্ধ থাকায় এবং স্থানীয় মুসল্লিরা লকডাউন ও কারফিউ মেনে চলতে বাধ্য হওয়ায় কেউ নামাজে আসছেন না। হারামাইন শরিফাইনে মসজিদের স্টাফরাই কেবল জামাত-জুমা-তারাবি চালু রেখেছেন।

আরব বিশ্বের বহু মসজিদ বন্ধ। কিছু মসজিদে শুধু আজান ধ্বনিত হচ্ছে। দু’একজন জামাত পড়ছেন। মুসল্লিদের বলা হচ্ছে নিজের অবস্থানেই নামাজ পড়ে নিতে। সামান্য কিছু পরিবর্তন করে এ নিয়মটিই এখন এশিয়া ও উপমহাদেশের সব মসজিদের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে হচ্ছে। অবশ্য অবস্থা বিবেচনায় মক্কা ও মদীনা শরীফের দুই প্রধান মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দায়িত্বশীলেরা চিন্তা-ভাবনা করছেন। সহসাই মসজিদ দুটি আরো বর্ধিত আকারে খুলে দেয়া হতে পারে।

প্রাণঘাতী মহামারী ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা কমিয়ে আনার জন্য জীবনের প্রতিটি অঙ্গনের মতো মসজিদের বেলায়ও একই রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সবাই জানেন যে, ইসলামী কিকহে’র আলোকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মসজিদ ও জামাত চালু রেখে বাংলাদেশ একটি প্রশংসিত পথ বেছে নিয়ে মুসলিম বিশ্বে নজির স্থাপন করে। মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের সরাসরি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের তুলনায় বাংলাদেশের এ পদ্ধতি অবশ্যই অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুন্দর।

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় গরিব মানুষের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ক্ষেত্রভেদে লকডাউন তুলে নিতে হবে। প্রথম রোগ ধরা পড়ার ৬০/৬৫ দিন পার হলে, যার ৫০/৫৫ দিন এখন আমরা পার করছি, এলাকাভেদে মসজিদে যাওয়া উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনা করে হেফজখানা, মক্তব, প্রাইভেট মাদরাসা, মহিলা মাদরাসা ও কওমী মাদরাসা স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ সাপেক্ষে সহসাই খুলে দিতে হবে। সরকারের টাকায় যাদের গ্রাসাচ্ছাদন ও জীবনের প্রতিটি মৌলিক প্রয়োজন চলে, যারা ভালো পর্যায়ের বিত্তবান তাদের মতো নিয়মের পাবন্দি করা ৯০ ভাগ সাধারণ মানুষের জন্য সম্ভব নয়। তাদের জন্য হার্ড ইমিউনিটি ব্যবস্থাকে সামনে রেখে রোগ মৃত্যু ও জীবনের যুদ্ধকে সমন্বয় করে ধীরে ধীরে সব চালু করার পথ অবলম্বন করতে হবে। এসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা আত্মমর্যাদাশালী আলেমদের। যারা অন্য মানুষের মতো সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারেন না। দীনের মিশন নিয়ে জীবন সংগ্রামের ময়দানে তাদেরকে সহনীয় মাত্রায় বিচরণ করতে দিতেই হবে।

আল-হামদু লিল্লাহ, কোনো মসজিদ লকডাউন নয়। পূর্ণ তালাবদ্ধ নয়, আজান নামাজ জামাত জুমা তারাবি ইত্যাদি বন্ধ নয়, আশা করি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করে ২/৪ জনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুন্নাত এতেকাফও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। রমজানের শেষ দশ বিজোড় রাতের সন্ধানে দশ দিনের এই এতেকাফ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। কিছু লোক আদায় করলে মসজিদের আওতাধীন মহল্লার সবার পক্ষে আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ না করলে সবাইকে সুন্নাত তরকের দায় বহন করতে হবে। সুন্নাতের বরকতে অল্প সময়ের অপেক্ষা শেষে মসজিদও উন্মুক্ত হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।

এবারকার এই অবস্থা বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও বহুমানুষের মৃত্যুজনিত কারণে সৃষ্টি হয়েছে। নোভেল করোনাভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক, টিকা, সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। এর ধরনটিও নজিরবিহীন। কে আক্রান্ত তা সহজে বোঝা যায় না। এমনকি রোগী নিজেও জানে না যে, সে আক্রান্ত। না বুঝেই কেউ তার পরিবার পরিজনসহ ব্যাপক সংক্রমণ ঘটায়। এভাবে একটি হাসপাতালকেও সে অচলাবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। ইতোমধ্যে প্রচুর চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মী র‌্যাব পুলিশ ও জরুরি সেবার পেশাজীবি লোকজন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। মসজিদ মাদরাসাও এমন সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয় বিধায় একটি পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে দিন কাটাতে হবে।
চিকি.
পবিত্র রমজানে দোয়া করতে হবে, আল্লাহ যেন গোটা দুনিয়াকে এ অদৃশ্য অভ‚তপূর্ব ও অভিনব চরিত্রের বিপদ, মহামারীরূপী এই গজব ও আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করেন। মানুষের অপকর্মে সৃষ্ট মহামারী দূর করে দেন। করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে মানবজাতি যেন সফল হয়। দুর্ভিক্ষ ও মন্দার হাত থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। মসজিদ উন্মুক্ত করার পরিস্থিতি তৈরি করে দিন। দীনি শিক্ষার সব কেন্দ্র চালু করার ব্যবস্থা করে দিন। জীবনযাত্রা সচল ও স্বাভাবিক করে দিন।

লেখক : চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার ৷

 জাগো প্রহরী/এফ আর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য