বামদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব : একটি দালিলিক প্রমাণ



শরিফুল ইসলাম রিয়াদ ৷৷

বাংলাদেশে বামরা সবসময়ই পরনির্ভর রাজনীতি করেছে।বড় দলের সাথে মিশে রাজনীতি করায় ১৯৪৭ থেকে ৫৪ পর্যন্ত হালে কিছুটা পানি পেয়েছিলো।অতি রাজনীতি বুঝার কারণে,এখন সে পানি শুকিয়ে মরুভূমি দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামরা যতটুকু ফাণা তুলে ততটুকু আওয়াজ হয়না,যতটুকু রাজনীতিতে নিজেদের পাকা ভাবে ততটুকু মাঠের রাজনীতিতে প্রমাণ মিলেনা।

বামদের রাজনীতি মানেই মুখ-পন্ডিতি। ওদের কথায় বর্তায় আর বিবৃতিতে মনেহয় দেশের পুরো রাজনীতি ওরাই ধারণ করে। সব রাজনীতি ওরাই বুঝে।

বাকিরা সব আঙ্গুল চোষে!!

রাজনৈতিক মাঠে বামদের দৌরাত্ম্য দেখলে " যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা" প্রবাদটি মনে পড়ে। 

যেখানে বামদের জন্মগত নীতি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। কিন্তু না! বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামদের কখনো পুজিঁবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়নি।বরং নিজেদের আদর্শিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়ে পুঁজিপতিদের কোলে নেচে-কুঁদে নিজের ষোলকলা পূর্ণ করায় ওরা আত্মহারা থেকেছে। 

যেমন:১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের সঙ্গে দুধ-চিনি সম্পর্ক করা।১৯৫০ সালে সেনাবাহিনীর এক অংশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের নীলনকশা অংকন করা।
কমিউনিস্ট নেতা সাজ্জাদ জাহির এবং কবি ফেজ আহমেদ ফেজ পাকিস্তানের এক উগ্র ভারতবিরোধী সেনা অধ্যক্ষ জেনারেল আকবরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট কোলে ছড়ে কিছু আসনে বিজয় হওয়া।
১৯৫৪ থেকে ৭১ পর্যন্ত রাজনীতিতে বামরা যখন আর সুবিধা করতে পারছিলনা তখন ১৯৭১সালে তাজউদ্দিন আহমেদ পরিচালিত মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া।

অন্যদিকে ১৯৭২-’৭৫ পর্যন্ত বামরা আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিহীন সমর্থন করে আওয়ামীলীগের ‘বি টি' বলে পরিচয় লাভকরা। 
একদলীয় শাসন(বাকশাল) কে সবার আগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এবং বাকশালের পেটে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো।

এক কথায় ১৯৪৭ থেকে আজ পর্যন্ত বামরাজনীতির নোঙর ছিলো পুঁজিবাদী রাজনীতির কাঁধে।

এটা পরিস্কার যে,বড় কোনো দলের ছত্রচ্ছায়ায় না থাকলে বামরা রাজনীতিতে টিকতে পারবে না।আওয়ামী লীগ থেকে বেশি দূরে অবস্থান করে বাম রাজনীতি বেশিদূর এগাতে পেরেছে ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া মুশকিল। 

বর্তমানে যারা বাম রাজনীতি করছেন তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘খুচরা বাম’ বলে পরিচিত।বামরা জনমনে টাকার পাশে খুচরা পয়সার মতো উপেক্ষিত বল্লেও ভুল হবেনা।

রাজনীতিতে তাদের এই অসহায়ত্ব শুধুই অতিমাত্রায় রাজনীতি বুঝা ও ইসলামপন্থীদের পিছনে খামোখা গেঁও গেঁও করার কারণে। 

ভবিষ্যতে বামরা বেমালুম বুলি আওড়ানো বন্ধ না করলে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের মতো পবিত্র হজ্জের সাদা কাপড় পরে এয়ারপোর্টে বসে অভিনয় করতে হবে।এবং সে পোশাক আর্দশের দেউলিয়াত্ব ও বাম রাজনীতির গায়ে ‘কাফনের মোড়ক’ বলে বিবেচিত হবে,ইনশাল্লাহ।

লেখক : কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক,ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন৷

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য