রাষ্ট্রচিন্তার কর্মসূচি : ইশা’র উপস্থিতিতে বিব্রত বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী


জাগো প্রহরী : সাদা পোশাকে তুলে নেয়া ও গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে আজ ১০ মে' ২০২০ সকাল ১১ টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি করে রাষ্ট্রচিন্তা ও বন্ধুজন। এই কর্মসূচি সারাদেশে একইভাবে পালিত হয় বলে জানান হয়। ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমনে থেকে কর্মসূচিতে রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক দিদারুল ভূইয়া, কার্টুনিস্ট কিশোর, লেখক মোশতাক ও সাংবাদিক কাজলসহ প্রায় আটক ৮ জনের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়। এসময় উপস্থিতি ছিলেন রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, রাখাল রাহা, ফরিদুল হক ইশরাত শিল্পী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মাহমুদ, মৌলিক বাংলার শশ্মান ঠাকুর, সাংবাদিক বাধন অধিকারী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র সভাপতি ইকবাল কবীর, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, মরিয়ম প্রমুখ।

এদিকে এই কর্মসূচিতে সংহতি জানানকে বিব্রত দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আজ বিকেলে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিবৃতির কথা জানান হয়। বিবৃতিতে ইকবাল কবীর বলেন, আজ ১১:৩০টার দিকে রাষ্ট্রচিন্তার কর্মসূচিতে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া সংহতি বিব্রতকর। এটা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র আদের্শের সাথে সংঘর্ষিক। পূর্বে এবং এখন পর্যন্ত আমরা কখন্ও কোন সম্প্রাদায়িক, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির সাথে আন্দোলন করিনি। আজকের এই ঘটনায় ছাত্র মৈত্রী’র রাজনীতি নিয়ে সংগঠনের সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র পক্ষ থেকে ইকবাল কবীর জনান, ‘সাদা পোশাকে তুলে নেয়া ও গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন’ শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করে রাষ্ট্রচিন্তা। আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদককে কর্মসূচি বিষয়ে জানান হয়। ইতোপূর্বে রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক দিদারুল ভূইয়া দিদার, লেখক মোশতাক আহমেক ও কার্টুনিস্ট মাহমুদ কিশোর ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে ৩১৩ জন স্বাক্ষরিত একটি যুক্ত বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। আমি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলাম। সেখানে আমরা সাম্প্রদায়িক কোন শক্তির উপস্থিতি লক্ষ করিনি। তাছাড়া রাষ্ট্রচিন্তা যেহেতু গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলে, আমরাও এই ধরণের শক্তির সাথে মিত্রতা বজায় রেখে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। তারই আংশ হিসেবে আমি সংগঠনের পক্ষ থেকে আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি ও সংহতি জানাই। সেখানেই দেখি, কর্মসূচিতে সম্প্রদায়িক শক্তি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি। আমি তখনই কর্মসূচির আয়োজক রাষ্ট্রচিন্তার প্রধানতম সংগঠক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুমকে জানাই এবং কর্মসূচি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করি। আমরা স্পষ্টতই মনে করি কোন ধরণের সাম্প্রদায়িক চিন্তা বা শক্তিকে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিকশিত হতে পারে না।

এই ধরণের অসচেতনতাবসত ভুলের জন্য বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র সকল সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দেশেবাসীর কাছে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রর্থণা করছি। পরবর্তীতে এই ধরণের ভুল না করা অঙ্গীকার করছি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার অধিকার আদায়, সম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ, স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে আপোসহীন ভূমিকা পালন করে এসেছে। দেশের মেহনতি মানুষের পক্ষে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’র অনেক সূর্যসন্তান। শ্রেণী চেতনাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে বিপ্লবী ধারার ছাত্র রাজনীতি বিকাশে এখনো লড়াই করে চলেছি আমরা।

বর্তমান সময়ে সরকার যেভাবে মানুষের উপর ফ্যাসিবাদি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এর বিরুদ্ধে তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই ছাত্র সমাজের প্রতি। আমরা দাবি জানাই, দিদারুল ভূইয়া, মোশতাক, কিশোর ও সংবাদিক কাজলের নিঃশর্ত মুক্তি ও অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে। এখন পর্যন্ত যাদের নামে এই মামলা ঝুলছে সেই সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে সকল পর্যায়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাই।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা মনে করি যারা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করতে চায় তারা আসলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে বাধাঁ হিসেবেই কাজ করে। এই প্রবণতাগুলো গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে বিভ্রান্ত, বিপথগামী করে। এই ধরণের রাজনৈতিক প্রবণতাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে মেহনতি মানুষের পক্ষে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিকশিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য