অন্য দেশের তুলনায় করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জাগো প্রহরী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অন্যান্য দেশে করোনাভাইরাসে যেভাবে আক্রান্ত এবং মারা যাচ্ছে তার তুলনায় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এই যে একটি অদৃশ্য শক্তির হঠাৎ আক্রমণ এবং এর ফলে সবাই বিপর্যস্ত। আমাদের ভূখণ্ড ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বেশি।

তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতি সচল রাখা উচিত। এ জন্য আমাদের রয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল ( ১৪ মে) বৃহস্পতিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানের (ভিডিও কনফারেন্স) মাধ্যমে  করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০ লাখ পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ প্রেরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রতি পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদানে এরই মধ্যেই ১২৫০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনা খরচে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ঈদের আগেই এই টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি চার লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

একই সঙ্গে সুইচ চেপে দুটি কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই হলো আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ। কারো কাছে যেতে হবে না, ধরনা দিতে হবে না, বলতে হবে না। কিন্তু সবার কাছে টাকা হেঁটে পৌঁছে যাবে। মানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, এ অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। আমরা হয়তো অনেক বেশি দিতে পারব না। কিন্তু কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, সবাই যাতে সামান্য হলেও সহায়তা পায় আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনে প্রয়োজন অনেক বেশি। মানুষের ক্ষুধার জ্বালা আমরা বুঝি। এ জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মহামারি করোনাভাইরাসকে অদৃশ্য শক্তি আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, এমন একটি অদৃশ্য শক্তির মোকাবেলা কোনো দেশই করতে পারছে না। কত শক্তিশালী দেশকেও আমরা দেখেছি, এই করোনাভাইরাস শক্তির কাছে সারেন্ডার করছে।

সারা বিশ্বের এই লকডাউন পরিস্থিতিতে ‘লাভ হয়েছে’ প্রকৃতির বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশ-প্রতিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। প্রকৃতি তার আপন গতিতে ফিরে যাচ্ছে। এটি একটি অদ্ভুত ব্যাপার, এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীতে আর কখনো ঘটেনি। অনেক মহামারি ও দুর্ভিক্ষের কাহিনি আমরা জানি। কিন্তু এবারের বিষয়টা ভিন্ন।

শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, তাঁর সরকার সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে দ্বৈততা পরিহারের চেষ্টা করেছে এবং আসন্ন ঈদ ও রমজানকে উপলক্ষ করেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশে তখন মঙ্গা থাকে না, দরিদ্র থাকে না, এটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। তিনি একেবারে বেকার ঘরে বসে না থেকে করোনার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই কিছু কিছু কাজকর্ম করার জন্য মেহেনতি মানুষকে পরামর্শ দেন।

কর্মসংস্থান-প্রবাসী ব্যাংকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার : কর্মসংস্থান ব্যাংকে দুই হাজার কোটি টাকা আমানত দেবে সরকার। যাতে স্বল্প সুদে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন। আর প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে আরো ৫০০ কোটি টাকা আমানত দেবে সরকার। যাতে ঘরবাড়ি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয় এবং বিদেশ থেকে ফিরলে সেখান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকে ঋণ প্রদান বৃদ্ধি করার জন্য আরো দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ আমানত দেওয়া হবে। ওখান থেকে যুবক শ্রেণি যাতে বেকার হয়ে ঘুরে না বেড়ায় তার জন্য সেখান থেকে ঋণ নিতে পারবে তারা। নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।

প্রবাসীদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যারা প্রবাসী, তারা রেমিট্যান্স পাঠায়। তারা যেন ঘরবাড়ি বিক্রি না করে, ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারে, তার জন্য প্রবাসী কল্যাণ নামে আরেকটি বিশেষ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। সেই ব্যাংকেও আমরা আরো টাকা দেব। সেখানে আমরা অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা দেব। এর আগে ওখানে আমরা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছি।’

ঈদের আগে মসজিদ-মাদরাসায় যাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার : ঈদের আগে দেশের সব মসজিদে উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি আরো সাত হাজার কওমি মাদরাসায় ঈদের আগে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন মসজিদে ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ অন্যরা আছেন। সাধারণত রমজান মাসে সবাই মসজিদে বেশি যায়। তারাবির নামাজ পড়েন, অনেকে দান করেন। এতে মসজিদের ভালো ইনকাম হয়। আমি খোঁজ নিচ্ছি, এখনো অনেক মসজিদ কমিটি ও বিত্তশালীরা দান করে যাচ্ছেন—এ খবর আমি জানি। তার পরও সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। আমি এরই মধ্যে একটি তালিকা করতে বলে দিয়েছি। সব মসজিদে রমজান-ঈদ উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা দেব।

ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংযুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরগুনা, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ এবং লালমনিরহাটের উপকারভোগী জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাগো প্রহরী/এফ আর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য