করোনা রোধে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৩ নির্দেশনা



জাগো প্রহরী : দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১৩টি জনগুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার ( ১২ মে ) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের সকল মন্ত্রণালয়সহ অধিনস্ত দপ্তর, বিভাগ ও জেলা-উপজেলার অফিসগুলোতে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এসব নির্দেশনা পালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-

১. প্রতিটি সরকারি অফিস বা কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুরক্ষার জন্য জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা যেতে পারে। এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

২. প্রতিটি অফিস চালুর আগে অবশ্যই কক্ষ, আঙিনা ও রাস্তাঘাট জীবাণুনাশক দিয়ে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৩. প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশের আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। অফিসের প্রবেশ পথেই থার্মাল স্ক্যানার বা থার্মোমিটার দিয়ে এ পরীক্ষা করে ভেতরে ঢুকতে হবে।

৪. অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত পরিবহনগুলো অবশ্যই প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার সময় ন্যূনতম তিন ফুট পারস্পারিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এ সময় প্রত্যেককে তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক বা সার্জিক্যাল মাস্ক দিয়ে ভালোভাবে নাক-মাখ ঢেকে রাখতে হবে।

৫. তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। তবে সার্জিক্যাল মাস্ক মাত্র একবারই ব্যবহার করতে হবে। একবার মুখ থেকে খুলে ফেললে এটি আর ব্যবহার করা যাবে না।

৬. প্রত্যেক কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অফিসে যাওয়ার আগে এবং পথমধ্যে বার বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই হাতের মাধ্যমে জীবাণু শরীরের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে। ৭. অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার খাওয়ার সময় ন্যূনতম তিন ফুট পারস্পারিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৮. প্রতিবার টয়লেট ব্যবহার শেষে প্রত্যেককে সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে। ৯. পারস্পারিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে অফিসে কাজ করতে হবে।

১০. অফিসে অবস্থান করার সময় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই মাস্ক পরে থাকতে হবে। পাশাপাশি কিছুক্ষণ পর পর সাবান ও হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

১১. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে চলার কথা নিয়মিত মনে করিয়ে দিতে হবে। তারা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কি না তা ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটর করতে হবে।

১২. প্রতিটি অফিসে সহজে চোখে পড়ে এমন একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশনা টাঙিয়ে দিতে হবে।

১৩. যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হন বা উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাগো প্রহরী/গালিব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য