করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় দেশে রেকর্ড ২৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৩২


জাগো প্রহরী : দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যা একদিনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৮০-এ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৫৩২ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১ হাজার ৭৩৭ জনে।

আজ রোববার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি ৪৭টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ৯ হাজার ১৮৪ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ৯০৮টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮৩ জনের। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ১৫৩২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ হাজার ৭৩৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২৮ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৮০ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৪১৫ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৯০১ জন। সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৫৩।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টাইন নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬৩ জনকে। এই সময়ে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭ জন। বর্তমানে কোয়ারান্টিনে আছেন ৫৫ হাজার ১৫৩ জন।

একই সঙ্গে ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৫৩ জনকে। এ সময় ছাড় পেয়েছেন ৯৪ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪ হাজার ৪৪৬ জন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ২৬৪টি। আরও ৬৭টি শয্যার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট ১০৬টি।

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ২৪ জনের। সেটা ২২ মে’র বুলেটিনে জানানো হয়। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল এক হাজার ৮৭৩ জনের। ওই তথ্য জানানো হয়, গত ২৩ মে´র বুলেটিনে।

এছাড়া গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়।

এদিকে দেশে গত ২৮ এপ্রিল করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৫৪৯ জন। এরপর ২৯ এপ্রিল ৬৪১ জন, ৩০ এপ্রিল ৫৬৪ জন, ১ মে ৫৭১ জন, ২ মে ৫৫২ জন, ৩ মে ৬৬৫ জন, ৪ মে ৬৮৮, ৫ মে ৭৮৬ জন, ৬ মে ৭৯০ জন, ৭ মে ৭০৬ জন, ৮ মে ৭০৯ জন এবং ৯ মে ৬৩৬ জন, ১০ মে ৮৮৭ জন, ১১ মে ১০৩৪ জন, ১২ মে ৯৬৯, ১৩ মে ১ হাজার ১৬২ জন, ১৪ মে ১০৪১, ১৫ মে ১২০২, ১৬ মে ৯৩০, ১৭ মে ১২৭৩, ১৮ মে ১৬০২, ১৯ মে ১২৫১ জন ও ২০ মে ১৬১৭, ২১ মে ১৭৭৩, ২২ মে ১৬৯৪ ও ২ মে ১৮৭৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন করোনাভাইরাসের কবলে গোটা বিশ্বই। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল।

জাগো প্রহরী/এফ আর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য