করোনার কারণে আফগান সীমান্তে বেড়া নির্মাণ থেমে নেই : পাকিস্তান সেনাবাহিনী


জাগো প্রহরী : আফগানিস্তানের সাথে ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার ‘৭০ শতাংশের বেশি’ এলাকায় পাকিস্তান নিজেদের দিক থেকে বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করেছে এবং করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এই কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি।

পাকিস্তানে তুলনামূলক কম সংখ্যক ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি ধরা পড়েছে। এ পর্যন্ত সাড়ে ২১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ জন সেখানে মারা গেছে।

সেনা বাহিনীর নেতৃত্বে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের এই বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। কর্মকর্তারা আশা করছেন এই বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২১ সালের গ্রীষ্মের মধ্যেই এর কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।

উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্তের ৮৫ শতাংশের বেশি এলাকা এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় বালুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশান্স (আইএসপিআর) ভিওএ-কে এ তথ্য জানিয়েছে।

কয়েক মিটার দূরে দুই সারি তিন মিটার উঁচু বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে, এই বেড়ার মাথায় রয়েছে প্যাঁচানো কাটাতার। দুর্গম এলাকা থেকে শুরু করে ১২,০০০ ফুট উঁচু পর্বত এলাকা – সব জায়গা দিয়েই এই বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। বসানো হয়েছে শত শত নতুন আউটপোস্ট এবং দুর্গ এবং আধুনিক নজরদারী যন্ত্রপাতিও স্থাপন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার স্থানীয় একটি সংবাদ চ্যানেলকে সোমবার রাতে বলেন, করোনাভাইরাস সম্পর্কিত লকডাউন সীমান্ত নিরাপত্তা প্রকল্পকে ব্যাহত করবে না।

পাকিস্তানী এআরওয়াই নিউজ চ্যানেলকে ইফতিখার এক সাক্ষাতকারে বলেন, “বেড়া নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়নি। খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে বেড়া নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং বালুচিস্তানেও দ্রুত গতিতে কাজ চলছে”।

কর্মকর্তারা বলে আসছেন যে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য সীমান্ত দিয়ে যে অবৈধ পারাপার ও জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটে, এই বেড়া নির্মাণের ফলে সেগুলো অনেকটাই কমে আসবে।

আফগান কর্মকর্তারা পাকিস্তানের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরোধীতা করে আসছে কারণ ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে যে সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কাবুল সেটার সাথে দ্বিমত পোষণ করে এবং এখনও তারা এই সীমারেখাকে ডুরাণ্ড লাইন হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। ইসলামাবাদ তাদের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তকে উত্তরাধীকার হিসেবে পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের সীমান্ত নিরাপত্তা পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা কংগ্রেসের শুনানির সময় আইনপ্রণেতাদের বলেছে যে, ওয়াশিংটন ‘ডুরাণ্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়”।

পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী বলেছে যে, তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে, ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দেশে জঙ্গি হামলার মাত্রা বহু কমে গেছে।

তবে সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অবশ্য সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানী নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর উপর হামলার মাত্রা কিছুটা বেড়ে গেছে। ফলে একটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে, জঙ্গিরা হয়তো তাদের সাবেক এলাকাগুলোতে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।

আইএসপিআর অবশ্য এই উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছে। তারা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে যে, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা’ এবং ‘গোপন ঘাঁটি’ ধ্বংসের জন্য চলমান ‘গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক’ নিরাপত্তা অভিযানের কারণেই সহিংসতা বেশি মনে হচ্ছে।

সূত্র : ভিওএ

জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য